রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

এবার ‘মেঘনার পানি’ পান করবে ঢাকাবাসী

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন

ঢাকা শহরে বসবাসকারী দেড় কোটিরও বেশি মানুষকে পানি সরবরাহের কাজটি করছে ঢাকা ওয়াসা। গভীর নলকূলের মাধ্যমে পানি সরবরাহের পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে সেবা সংস্থাটি। তাদের লক্ষ্য, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ বা গভীর নলকূলের পানির বদলে নগরবাসীকে ‘সারফেজ ওয়াটার’ ভূ-উপরস্থ পানি পরিশোধন করে তা পানযোগ্য করে সরবরাহ করা। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত পাঁচটি প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে ওয়াসা। সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে ওয়াসা ৩৪ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ ও ৬৬ শতাংশ গভীর নলকূলের মাধ্যমে মোট ২৬৫ কোটি লিটার পানি প্রতিদিন সরবরাহ করছে।

ওয়াসা চায়, ৭০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ ও ৩০ শতাংশ গভীর নলকূলের মাধ্যমে সরবরাহ করতে। তার অংশ হিসেবে ২০১২ সালে করা মাস্টারপ্ল্যানের ওপর ভিত্তি করে মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে ঢাকায় নিয়ে আসতে কাজ করছে ওয়াসা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্প কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৪ সালের শুরুতে ঢাকাবাসীর জন্য পানযোগ্য হতে চলেছে মেঘনা নদীর পানি।

ঢাকা এনভায়রোমেন্টারি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প নামে এ প্রকল্পটির কাজ চলছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুরে। মেঘনা নদীর বিশনন্দী এলাকা থেকে পানি নিয়ে তা পরিশোধন করা হবে এ প্রকল্পে। পরিশোধিত পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজধানীর বারিধারা ড্রিসটিবিউশন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।

তাকসিম এ খান বলেন, ‘আমাদের মোট পানির চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারছি। আমরা এখনি ২৬৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছি। সারফেজ ওয়াটার ৩৪ শতাংশ। ৬৬ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার। এটা বিপরীত হবে।’

মো: তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পানির ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় যে পানির সমস্যা ছিল তা এখন সমাধান হয়েছে।’ দেশে পানির কোনও সমস্যা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানির স্তর নিচে নামার কারণে সারা পৃথিবীর ন্যায় বাংলাদেশও সার্ফেস ওয়াটারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গন্ধবপুর পানি শোধানাগার থেকে রাজধানীতে পানি নিতে প্রকল্প এবং ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের কাজ একই সাথে চলছে।’ কাজ শেষ হলেই পানি সরবরাহ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

এলজিইডি’র রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ নিয়ে সমালোচনা হয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এলজিইডি যেসব কাজ করে তা লো কস্টে করে। যার জন্য টেকসই হয় না। তার মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ মানসম্মত এবং টেকসই করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

দুর্নীতি বা অনিয়ম করে নিম্নমানের কাজ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের সাথে জড়িত থাকায় ইতোমধ্যে অনেক প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সেই চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করে লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে হবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি এডিবি, এএফডি এবং ইআইবি’র অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English