শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

ফেসবুক নিরাপদ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

আপনি হয়তো অনেক কিছু শেয়ার করছেন ফেসবুকে। ছবি, মনের ইচ্ছা, দুঃখ, ভালো লাগা, কোথায় যাচ্ছেন, কাকে নিয়ে যাচ্ছেন এমনকি প্রিয়জনের সাথে মান অভিমানের গল্পও বাদ থাকছেনা। কিন্তু একটা বিষয় কি খেয়াল করেছেন, ফেসবুক আপনার কাছ থেকে বিভিন্ন নটিফিকেশন পাঠিয়ে প্রচুর তথ্য চেয়ে নিয়েছে। আবার অনেক সময় আপনি নিজেই হয়তো বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে বেশ সাজিয়েছেন আপনার প্রোফাইল। বিপদটা হতে পারে এখানেই। যত বেশি তথ্য দিচ্ছেন তত বেশি নিজেকে আপনি ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করছেন। তত বেশি আপনার নিরাপত্তা ঠুনকো হচ্ছে। এ যুগটা সাইবার ক্রাইমের যুগ। আপনার তথ্য চুরি করে অথবা আপনাকে ট্রেস করে ক্ষতি করা কঠিন কোন ব্যাপার নয়। এ জন্য একটু সাবধান হতে হবে। ২০০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর এক বিশাল সাম্রাজ্যে নিজের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে কিছু পন্থা অবশ্যই মেনে চলতে হয়। জানতে হয় কোন বিষয়গুলো বন্ধুদের জানাবেন, আর কোনগুলো জানাবেন না। আসুন তবে জেনে নিই কোন তথ্যগুলো ফেসবুকে না দেয়া উচিত অথবা দিলেও হাই প্রাইভেসি দিয়ে লক রাখা উচিত-

১. ফোন নাম্বার :
ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার জন্য ফোন নম্বর চায়। আপনি ফোন নম্বর ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা হাইড করে রাখায় উত্তম। ফোন নম্বর ‘পাবলিক’ করে রাখলে হয়তো কখনো আপনি দুই-একজন শুভাকাঙ্খীর ফোন পেতে পারেন কিন্তু অযাচিত কল আপনার বিরক্তির কারণ হতে পারে।

২. জন্মদিন :
আপনার জন্মদিনের তারিখ বা এর সাথে নাম, ঠিকানা হতে পারে আপনার গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা আরও সহজে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত বিবরণ হস্তগত করে নিতে পারেন। জানেন নিশ্চয় ব্যাংক থেকে আপনার একাউন্ট ভেরিফাই করতে জন্মতারিখ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয়। ফেসবুকের একাউন্ট সেটিংস এ গিয়ে জন্ম তারিখ হাইড করে রাখুন।

৩. অধিক সংখ্যক বন্ধু :
যত বেশি বন্ধু তত বেশিই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ছড়ানোর রিস্ক থাকে এবং তত বেশি লাইক কমেন্টও বেশি আসে। সেটার চেয়ে কিন্তু নিজের নিরাপত্তা বেশি জরুরি। তাছাড়া বেশি লোকের সাথে বন্ধুত্ব রাখাটাও তো ঝক্কির। সবার পরিচয় আপনার জানা নাও থাকতে পারে। হয়তো আপনার ফ্রেন্ডলিস্টেই কেউ ঘাপটি মেরে বসে আছে আপনারই ক্ষতি করার প্রতীক্ষায়। উহু, তাদের সুযোগ দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবিন ডানবারের গবেষণা তত্ত্ব অনুযায়ী, একজন মানুষ প্রায় ১৫০ জনের সাথে গভীর বন্ধুত্ব রক্ষা করতে পারে। ৩ হাজার ৩৭৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীকে পরীক্ষা করে ডানবার দেখান যে, ৪.১ জন হন আস্থাভাজন এবং ১৩.৬ জন মানসিক সঙ্কটের সময় সহমর্মিতা দেখায়। তাই নিষ্ক্রিয় বন্ধুদের ছাঁটাই করা সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর মিথষ্ক্রিয়ার জন্য উপযোগী।

৪. আপনার সন্তান বা পরিবারের ছোট সদস্যদের ছবি শেয়ার করা :
অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের পরিচালক ভিক্টোরিয়া নাশ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্থাপন করেন যেটি অনেকেই সমর্থন করেন, একজন শিশু তার সম্পর্কে কিরূপ তথ্য পরবর্তী সময়ে অনলাইনে দেখতে চাইতে পারে আগের প্রজন্ম এটা বিবেচনা করার প্রয়োজনই মনে করে না।

আপনি হয়তো আজ নিজের সন্তানের ছবি পোস্ট করছেন। কিন্তু পরে এটা ইস্যু হতে পারে। ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের বিকাশ এই প্রশ্নটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এর চেয়ে জরুরি বিষয় হল বাচ্চাদের ছবির পোস্ট দেখে দুষ্কৃতিকারীরা বা কিডন্যাপাররা সুযোগ নিতে পারে আপনার সন্তানের ক্ষতি করার।

৫.রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস :
নতুন রিলেশন উদযাপন কারতে চাইলেও তা ফেসবুকে করা ঠিক নয়। কারণ সম্পর্ক ভেঙ্গেও যেতে পারে এবং পরবতীতে ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ থেকে ‘সিঙ্গেল’ স্ট্যাটাসে যাওয়াটা আরও বিব্রতকর নয়কি? এটা নিয়ে বেশি কিছু আর না বলি।

৬. লোকেশন সার্ভিস :
২০১৫ সালে টেকক্রাঞ্চ জানায় যে, শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী। অর্থাৎ এদের মধ্যে একই সংখ্যক অনলাইনে তাদের লোকেশন প্রকাশ করে দেয়। যারা আপনার ক্ষতি করতে চায় তাদের না জানাতে চাইলেও জানতে পারে আপনি কোথায় আছেন।

অতএব ফেসবুক এপ সেটিংস থেকে লোকেশন সার্ভিস অফ করে দিন। আর হ্যাঁ, কোথায় কোথায় চেক-ইন দিচ্ছেন তা দেখে কিন্তু ধারণা করা যায় কোনটা আপনার অফিস, কোনটা বাসা, কোথায় আপনি বন্ধু বা পরিবার নিয়ে সময় কাটান। পিছু নেয়া কি খুব কঠিন হবে দুষ্টু লোকদের জন্য?

৭. বিহেভিয়ার ম্যানেজম্যান্ট :
ফেসবুক একটি সামাজিক মাধ্যম এখানে সবাই সবার ‘বন্ধু’। কিন্তু বন্ধুতালিকায় থাকা অফিসের বস বা আপনার মুরুব্বিদের সাথে তাই বলে হালকাভাবে আচরণ করা মনে হয় ঠিক হবে না। আবার আপনার পোস্ট বা ছবি তাদের ভালো না লাগতেও পারে। নিজের প্রাইভেসি নিজের কাছেই রাখুন, কি দরকার অফিসের বসকে ফ্রেন্ডলিস্টে ডেকে এনে আপনি কি করছেন তা ঘটা করে দেখানোর। চাকরির মায়া করুন, বন্ধু নির্বাচনে কৌশলী হোন।

৮. অবস্থান সম্পর্কে ট্যাগ নয় :
মানুষ অনেক সময়ই ভুলে যায় তাদের বাসায় অবস্থানের ট্যাগ করাটা আসলে তার ঠিকানা সবাইকে দিয়ে দেওয়ার মতোই। এটাও সেই লোকেশন সার্ভিস অফ করে সমাধান করা যাবে।

৯. কখন এবং কোথায় ছুটিতে যাচ্ছি :
ফাইন্যানন্সিয়াল ওয়েবসাইট ‘দিস ইস মানি’ জানায়, যেসব ভ্রমণকারীরা ছুটি কাটানোর সময় চুরির শিকার হয় এবং তারা যদি তাদের ছুটির পরিকল্পনা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে, তাহলে তাদের ইন্সুরেন্স দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

১০. ক্রেডিট কার্ড বিবরণ :
ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আপনার নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, বাসা/অফিসের ঠিকানা জেনে যদি ক্রেডিট কার্ড বা ইমেইল বা ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বসে তবে? টাকা তো যাবেই, সাথে হয়তো মান সম্মানটাও। ফেসুকের কোন এপ রিকোয়েস্টে কখনোই নিজের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেয়া যাবেনা। পোস্ট বুস্ট করতে চাইলে বা কেনাকাটা করতে চাইলে এমন কার্ড ব্যবহার করতে হবে যেটির অ্যাকাউন্টে সাধারণত খুব বেশি অর্থ থাকেনা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English