কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন শতাধিক শিক্ষার্থী। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শাহাবাগ থানা পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে অবস্থান নেন সেখানে। একপর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিকাল তিনটার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ সেখানেও তাদের দাঁড়াতে দেয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি বোর্ড হঠাৎ করে গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ফরম পূরণের কথা বলা হয়। কিন্তু গত এক বছরে একটি ক্লাসও হয়নি। কোন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেনি। এতে আমরা পরীক্ষা নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছি।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—করোনায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা পোষাতে এক বছর সেশনজট কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। হঠাৎ স্থগিত হওয়া দ্বিতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ পর্বের তাত্ত্বিক পরীক্ষাগুলো অটোপাস দিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো পরবর্তী পর্বের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিতে হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম ও সপ্তম পর্বের ক্লাসগুলো চালু করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিতে হবে। অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহার ও প্রাইভেট পলিটেকনিকের সেমিস্টার ফি ৫০ শতাংশ মওকুফ করতে হবে এবং সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালিত হয়। চার বছরে মোট আটটি সেমিস্টারে কোর্স সম্পন্ন করা হয়। আগস্ট মাসে ভর্তি হয়ে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত (আগস্ট-জানুয়ারি) সেমিস্টার চলে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই ধারায় বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছেন