স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এক মঞ্চে এসে কর্মসূচি দিয়েছেন নুরুল হক নূর নেতৃত্বাধীন ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ, জোনায়েদ সাকি নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্রচিন্তা।
মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সন্মাননা, ১২ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সমাবেশ, ২৬ মার্চ চার সংগঠন আলাদা আলাদাভাবে স্বাধীনতা দিবস পালন এবং ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস পালন।
সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন না, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ছিলেন। এছাড়া নুরুল হক নূর ও জোনায়েদ সাকির সঙ্গে রাষ্ট্রচিন্তার হাসনাত কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই চার সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ পথচলা নিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এখানে নঈম জাহাঙ্গীর ভাই-বাবলু ভাইরা রয়েছে, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রজন্ম সাকি ভাইরা রয়েছে, আমরা এই প্রজন্মের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিকরা রয়েছি- তিন প্রজন্ম মিলে এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আজকের এই সমাবেশ থেকে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায়, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়ায় যে যেখান থেকে আমাদের এই বক্তব্য শুনবেন আমরা আপনাদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানাই। কোনো দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য না, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করার জন্য।
রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বাংলাদেশে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ, শাসক গোষ্ঠীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই তারা চার সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রাথমিকভাবে এক জায়গায় এসেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এর বিকল্প নেই।
নিজেদের দাবি তুলে ধরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।পারস্পারিক বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বর্জন করে সকলের সাথে আইনানুগ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেওয়াও হবে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তিনি বলেন, সকলের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তির বাংলাদেশ, বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের বাংলাদেশ, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের বাংলাদেশ কায়েমের প্রথম শর্তই হচ্ছে, সকলের জন্য ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা। কেবলমাত্র জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।