খাদ্যে ভেজাল বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই হচ্ছে বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এবং সে পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সবার আগে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
এর পাশাপাশি পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধান করার প্রয়োজনীতার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খাদ্যের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টির নিশ্চয়তাও একান্তভাবে প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাইসের কারণে বর্তমানে অনলাইনে খাবার কেনেন অনেকে। তবে ভেজালমুক্ত খাবার পাচ্ছেন কী না সেটা দেখতে হবে।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসি, দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। এর আগের সরকারগুলো কখনও খাদ্যে সংসম্পূর্ণতা অর্জনে দৃষ্টি দেয়নি। আমদানির ওপরই তাদের নির্ভরতা ছিল। কারণ আমদানির সঙ্গে তাদের নিজেদের লোকজন যুক্ত ছিল। আমরাই প্রথম খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পদক্ষেপ নেই। আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসা করতে আসেনি, আমরা সেবা করতে এসেছি। কারও কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। মাটি ও মানুষক সম্বল করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করবো। নিজেদের পুষ্টি নিশ্চিত করবো।‘
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ করেছি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ করেছি, গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। ফুড গ্রেড ল্যাবরেটরি করে রফতানির প্রতিবন্ধকতা দূর করেছি। অনেকগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। লবণাক্ত সহিঞ্চু ধান, খরা সহিঞ্চু ফল-ফসল এরকম অনেক ভালো ভালো গবেষণা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী সুষম খাদ্য নিয়ে প্রচারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট শিশু, বয়স্ক, মাতৃত্বকালে নারীদের কী কী খেতে হবে, কীভাবে খেতে হবে সেসব বিষয়ে মানুষকে জানাতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নত হোক, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ুক। একইসঙ্গে সুষম খাদ্যগ্রহণের সচেতনতাও তৈরি হোক।’
অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বক্তব্য রাখেন।