৬৯ বছর পরও জাতি জানে না বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছিলেন। পাঠ্যপুস্তক বা নথিপত্রে ৫ জনের নাম আসলেও সে সময়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও গবেষণা তথ্য বলছে, ভাষাশহীদের সংখ্যা আরো বেশি। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী।
অমর একুশের স্বাধীকার আন্দোলনের বীজ বপনে যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, তাদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা। জাতিসংঘও দিনটিকে দিয়েছে আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি। অথচ এতোদিন পরও জাতি জানেনা, ভাষাশহীদের প্রকৃত সংখ্যা?
পাঠ্যপুস্তকে রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বার-এই পাঁচ শহীদের নাম। অথচ সেই সময়ের পত্রপত্রিকা ও গবেষণায় রিকশা চালক আব্দুল আউয়াল ও কিশোর ওহিউল্লাহর নামও পাওয়া যায়।
৫২ সালের ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারির দৈনিক আজাদে শহীদের সংখ্যা আট জন উল্লেখ করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রামে শহীদের সংখ্যা বলা হয় সাত। আর পাকিস্তানের নির্বাসিত লেখক লাল খান তার ‘পাকিস্তানস আদার স্টোরি: দ্য ১৯৬৮-৬৯ রেভল্যুশন’ বইতে ভাষা আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ২৬ জন উল্লেখ করেন।
এতো তথ্য-উপাত্ত ও ভাষাসৈনিকরা বেঁচে থাকা স্বত্ত্বেও কেনো জানা যাচ্ছে না প্রকৃত শহীদের সংখ্যা–এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক জানান, বিষয়টি তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরবেন।
ভাষা শহীদদের স্মরনে এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতিবিজরিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। অথচ যে শহীদদের স্মরনে এ শ্রদ্ধা সেই সংখ্যাটায় এখনো অজানা। পাঠ্যপুস্তক খুললে এখনো ভাষা শহীদ মানে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম, ভাষা শহীদদের সংখ্যা নিয়ে এই যে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাচ্ছে এর দায় আসলে কার?