বাকপ্রতিবন্ধী নারী তার কাছে ভাড়া না থাকার বিষয়টি হেলপারকে কাগজে লিখে অনুরোধ করলেও চালকের নির্দেশে বাস থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন হেলপার।
বুধবার (৯ মার্চ) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।
অভিযুক্ত মো. সবুজ (২৫) ও হেলপার মো. নাহিদ (১৯)। গত রাতে তাদের কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বাসচালক সবুজ মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করবে র্যাব। এছাড়া বাসটির রুট পারমিট যাচাইয়ে বিআরটিএ’তে চিঠি দেবে তারা।
র্যাব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, ঘটনার দিন বাকপ্রতিবন্ধী ওই নারীর (সমর্থ বানু) কাছে বাসভাড়া চান হেলপার নাহিদ। এ সময় ওই নারী কাগজে লিখে জানান, তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাসভাড়া নেই। কম ভাড়া থাকায় তাকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন নাহিদ। যার নির্দেশ দেন বাসটির চালক সবুজ মিয়া।
গ্রেফতার বাসের চালক ও হেলপার।
ঘটনার পর তারা ডিপোতে বাস রেখে স্বাভাবিক ছিলেন বলে জানান আশিক বিল্লাহ। বলেন, ঘটনাটি একজন প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও করেন, যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে গত রাতে তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় বাসটি জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীর স্বজন বাদী হয়ে মামলা করেন।
চালক সবুজ মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স হালকা যানের থাকলেও ভারী যান (বাস) চালাতেন বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
চালক ও হেলপার কি পালিয়ে গিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার পর চালক ও হেলপার স্বাভাবিকই ছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ায় তারা পালিয়ে যান। পরে তাকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হয়।
এন মল্লিক পরিবহনের বিরুদ্ধে এমন নির্যাতনের আরও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জানি না। সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।
উল্লেখ, গত ৭ মার্চ কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর বাজার এলাকায় বাকপ্রতিবন্ধী ওই নারীকে বাস থেকে ফেলে দেয়া হয়।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ওইদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে এন মল্লিক নামের একটি বাস থেকে ছুড়ে ফেলা হয় বোরকা পরা ওই নারীকে। মাটিতে পড়ে তিনি অস্ফুট স্বরে গোঙাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাকে মাটি থেকে তোলেন।