শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

অপারেটররা তরঙ্গ কিনলেও গ্রাহক সেবার মান বাড়ছে না

অনলাইন প্রতিবেদন
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১
  • ৫৯ জন নিউজটি পড়েছেন
মুঠোফোনই এখন ব্যাংক, দ্রুত বাড়ছে গ্রাহক

প্রত্যাশা ছিল মোবাইল অপারেটররা তরঙ্গ কিনলে গ্রাহক সেবার মান বাড়বে। কমবে কলড্রপ, মিউটকলের মতো টাকা কাটার কৌশল। তবে তা আপাতত হচ্ছে না। মোবাইল গ্রাহক এসোসিয়েশনের দাবি, তরঙ্গ কেনার ফলে অপারেটরদের কেবল ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটবে, সেবা রয়ে যাবে আগের তিমিরেই। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার তরঙ্গ নিলাম যুদ্ধের একদিন পরই এসোসিয়েশনটির পক্ষ থেকে এ ধরনের দাবি জানানো হলো। তাদের এই দাবির পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এসোসিয়েশনের সভাপতি মহীউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশে ১৭ কোটি ১৮ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে নিলামে ওঠা ২৭.৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ অপর্যাপ্ত। গ্রামীণফোন সোমবার নিলামে কিনেছে ১০ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ।
পূর্বের মিলিয়ে ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ ব্যান্ড মিলিয়ে সর্বমোট তরঙ্গ দাঁড়ালো ৪৭ দশমিক ৪ মেগাহার্জ। অর্থাৎ তাদের মোট ৭ কোটি ৮১ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে তারা যে তরঙ্গ ব্যবহার করতে পারবে তা গ্রাহক অনুপাতে দাঁড়ায় ২০ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে ১ মেগাহার্জ। অথচ জিপির কোম্পানি টেলিনর অন্য দেশে এক লাখ গ্রাহকের বিপরীতে ব্যবহার করছে এক মেগাহার্জ তরঙ্গ। রবি আজিয়াটা ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ ব্যান্ড মিলিয়ে সর্বমোট ক্রয়সহ তরঙ্গ দাঁড়ালো ৪৪ মেগাহার্টজ। তাদের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ১৫ লাখ। হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহকের জন্য এক মেগাহার্জ তরঙ্গ। বাংলালিংকের ৯০০, ১৮০০ ও ২১০০ মিলিয়ে সোমবারের নিলামের তরঙ্গসহ দাঁড়ায় ৪০ মেগাহার্জ তরঙ্গ। তাদের বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে এক মেগাহার্জ তরঙ্গ। আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিটক নতুন করে তরঙ্গ না কেনায় তাদের অবস্থান পূর্বের মতোই। টেলিটকের প্রায় ৫৫ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে তাদের ব্যবহৃত ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্জ তরঙ্গ। অর্থাৎ ২ লাখ ১৫ জন গ্রাহকের বিপরীতে ১ মেগাহার্জ তরঙ্গ। সোমবার নিলামের তরঙ্গ ও পূর্বে ব্যবহৃত তরঙ্গ মিলিয়ে বর্তমানে ৪টি অপারেটরের মোট ব্যবহৃত তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫৬ মেগাহার্জ তরঙ্গ। অথচ অন্যান্য দেশে একটি অপারেটর এর চাইতে বেশি পরিমাণ তরঙ্গ ব্যবহার করে। গ্রাহকরা জানান, টুজি’র যুগে গ্রাহকরা যে ভয়েস কলের সেবা পেতেন ফোরজিতে এসে নেই সেই সেবাও। বরং প্রতিনিয়তই কলড্রপ, মিউটকলের শিকার হচ্ছেন তারা। আর ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ারও পেছনে পড়ে আছে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। নিম্ন মানের সেবা দিলেও টাকা আদায়ে ভুল হচ্ছে না তাদের। কলড্রপ, মিউট কল কিংবা টুজি গতির ইন্টারনেট দিয়ে গ্রাহকদের পকেট থেকে কেটে নেয়া হচ্ছে পুরো টাকাই। এদিকে ২১০০ ব্যান্ডের তরঙ্গ কিনতে নিলাম যুদ্ধে অংশ নেয় গ্রামীণফোন ও রবি। মূলত মোবাইল ডাটার ব্যবসা বিস্তৃত করতে তাদের এই যুদ্ধ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, মোবাইল ডাটায় অপারেটরদের লাভ অনেক বেশি। বিপরীতে খরচ অনেক কম। উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, একজন গ্রাহকের কাছে ৫ জিবি মোবাইল ডাটা বিক্রি করা হলো ৭ দিনের জন্য। দেখা গেল ওই গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ অথবা তিন জিবি ব্যবহার করতে পেরেছেন। ৭ দিন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ডাটাও শেষ। এতে গ্রাহকের ডাটা শেষ হলেও অপারেটররা অন্যদের কাছে আবারো সেই ডাটা বিক্রি করতে পারছেন। মহীউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, আমরা আশা করেছিলাম অপারেটররা পর্যাপ্ত পরিমাণে তরঙ্গ যাতে ব্যবহার করে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। কিন্তু নিলামে স্বল্প তরঙ্গ বরাদ্দ করা এবং উচ্চমূল্যের ফলে রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক তরঙ্গ ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতেই অনুমেয় যে, এই তরঙ্গ নিলামের ফলে এবং স্বল্প পরিমাণ তরঙ্গ বরাদ্দের ফলে গ্রাহক সেবার মান কতটুকু উন্নয়ন হবে সেটি আজ প্রশ্নবোধক। তাই আমরা মনে করি, এই তরঙ্গ বরাদ্দের ফলে সরকারের পকেট ভারী হবে সত্যি কিন্তু গ্রাহকদের পকেট শূন্য হতে থাকবে, কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রাপ্তি অপ্রাপ্তিই থেকে যাবে। বিটিআরসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবির সম্প্রতি জানান, অপারেটরদের মাসিক কলড্রপের পরিমাণ গড়ে ৫ থেকে ৬ কোটি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোনের সেবার মান খুবই খারাপ। কল ড্রপ, কথা না শোনাসহ অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। গত বছরের মার্চ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ মাসে সাড়ে ৫ লাখের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনে। এত বেশি অভিযোগ থেকে বোঝাই যাচ্ছে গ্রাহকরা সেবা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, সোমবারের নিলামে সর্বমোট প্রস্তাবিত ২৭ দশমিক ৪ মেগাহার্জ (১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ৭ দশমিক ৪ এবং ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ২০ মেগাহার্জ) তরঙ্গ প্রদানের নিষ্পত্তি হয়। যার থেকে সরকারের আয় হবে ভ্যাটসহ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এদিকে নিলামে তরঙ্গ কেনা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক। বাংলালিংক-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এরিক অস বলেন, ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাহকদের উন্নত মানের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এই স্পেকট্রাম গ্রহণ বিশেষ এক মাইলফলক। বাংলালিংক ২০২০ সালে দেশের সর্বোচ্চ গতির নেটওয়ার্ক হিসেবে ওকলার-এর স্বীকৃতিও পেয়েছে। আমরা মার্কেট শেয়ার, ডেটা থেকে আয় ও ডেটা ব্যবহারকারীর সংখ্যাসহ বিভিন্ন সূচকে উন্নতি করে ভালো ফলাফল ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। নতুন স্পেকট্রাম এই সাফল্যের মাত্রা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি আরো বৃদ্ধি করতে আমাদের সাহায্য করবে। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত স্পেকট্রামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ফোরজি ব্যবহার অভিজ্ঞতা এবং সেবা গ্রহণের মান সমুন্নত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে গ্রামীণফোন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English