বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজে গমনের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ঘটনা উপলক্ষে দেশব্যাপী বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, এ রাতে অলৌকিকভাবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঊর্ধ্বাকাশে গমন করে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। জিকির-আসকার, নফল নামাজ, দোয়ার মধ্য দিয়ে শবে মেরাজের রাত অতিবাহিত করেন মুসলমানরা।
পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপন উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদও আলোচনা সভা দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করবে বলে এক বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘মিরাজুন্নবী (সা.)’-এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমান। আলোচনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা রফিক আহমাদ ও জামেয়া ইসলামিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।
এছাড়া দেশব্যাপী সব মসজিদে মিলাদ মাহফিল, নফল নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াতসহ মুসলমানরা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করবেন।
হাদিস ও সাহাবীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মেরাজের রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.) নিয়ে কাবা শরিফের হাতিমে যান। জমজমের পানিতে অজুর পর বোরাক নামক বাহনে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। এরপর প্রথম আকাশে পৌঁছান মহানবী (সা.)। সেখানে হজরত আদম (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এভাবে সাত আকাশ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাক্ষাৎ করেন হজরত ঈসা (আ.), হজরত ইয়াহইয়া (আ.), হজরত ইদ্রিস (আ.), হজরত হারুন (আ.), হজরত মুসা (আ.) এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গে।
সপ্তম আকাশ থেকে সিদরাতুল মুনতাহায় গমন করেন মহানবী (সা.)। সেখান থেকে আরশে আজিম যান। এক ধনুক দূরত্ব থেকে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন হয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয় মহানবী (সা.)-এর উম্মতদের জন্য।
মেরাজ শেষে পৃথিবীতে ফিরে রাসুল (সা.) পুরো ঘটনা হজরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি নিঃসংশয়ে তা বিশ্বাস করেন। রাসুল (সা.) তাকে সিদ্দিকী বা বিশ্বাসী খেতাব দেন। মক্কার কাফেররা রাসুলের মেরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করে।