নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দুই বছরে মোংলা বন্দর হবে দেশের অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্দরের আউটার বারে ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। সেখান দিয়ে বড় বড় জাহাজ বন্দরে আসতে পারছে। দেড় বছরে ইনার বারে ড্রেজিং সম্পন্ন হলে বন্দরে খুব সহজেই বড় বড় ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে।
গতকাল শনিবার সকাল ১১ টায় মোংলার জয়মনির সাইলো ফুড জেটির পাশে বন্দর চ্যানেলের ইনারবারে ড্রেজিং কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন আর বিদেশী ঋনের উপর নির্ভর করেনা। আমাদের নিজেদের অর্থায়নে দেশের সবগুলো সেক্টরে উন্নয়ন চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দরে ইকোনিমক জোন এবং ইপিজেডের মাধ্যমে কয়েকলাখ মানুষের কমসংস্থান হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, ওএসপি, এনপিপি, আরসিপডিএস,
এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন হাবিবুল আলম, বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, সদস্য (প্রকল্প ও উন্নয়ন) মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন, পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ গিয়াস উদ্দিন, ইনারবারে ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক শেখ শওকত আলী, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক, পুলিশ সুপার আরিফুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার, খুলনা ও মোংলা কাস্টমসের পদস্থ কর্মকর্তা, শিপিং এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, আমদানি-রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিরিন আফরোজ অনু ও সাবরিনা রহমান।
উল্লেখ্য, মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে নাব্যতা বৃদ্ধিতে ৭৮৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে গতকাল থেকেই ড্রেজিং প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯ মিটার/ ১০ মিটারের জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। ড্রেজিং কাজের ঠিকাদার হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠা জিয়ানসু হায় হং কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী লিমিটেড ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন কর্পোরেশনের সাথে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২১৬.০৯ লক্ষ মিটার পলি উত্তোলন করা হবে। প্রকল্পটি মোংলা বন্দর জেটি হতে হারবারিয়া এ্যাংকরেজ পর্যন্ত বিস্তৃত মোট ৭ টি সেকশনে ড্রেজিং করা হবে।