রাজশাহীর বিভাগীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি এবং সরকার উৎখাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে।
মিনু ও দুলুর সঙ্গে আসামি করা হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হককে।
মঙ্গলবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম মামলার বাদি হয়েছেন।
বাদিপক্ষের আইনজীবী আসলাম সরকার বলেন, আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়েছেন। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপির এই চার নেতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
মামলা দায়ের করার সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এ ধরনের বক্তব্য যেন আর কখনো কেউ দিতে না পারে সেজন্যই মামলাটি করা হয়েছে।
গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। কটাক্ষ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও। এর প্রতিবাদ করে মিনুকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। ক্ষমা না চাইলে মামলা করার ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগ। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মিনুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানায়।
আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর মিনু গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় গত ৯ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক সেটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে পুলিশ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক মামলার আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দিয়ে আবেদনটি আবার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্রসহ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।