পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে ভিজিডি’র ৮৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ এই শ্মশানঘাট এলাকায় গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের স্টোর রুম থেকে ওই চাল স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসী জানান, ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের রফিজ মণ্ডলের ছেলে খোকন ও হাট উধুনিয়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে বাবুল আক্তার বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে ওই চাল ক্রয় করেন। পরে সরকারি সিলযুক্ত বস্তা পরিবর্তন করে অন্য বস্তা ব্যবহার করেন। এভাবে ওই চালের বস্তাগুলো একটি ট্রলি বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার পথে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। উপায়ান্তর না দেখে ট্রলির চালক চালের বস্তাগুলো শ্মশান ঘাটের কাছে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আশরাফুজ্জামানকে বিষয়টি অবহিত করেন। ইউএনও তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওছার হাবিবকে পাঠান।
এ বিষয়ে দিলপাশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঘোষ ইউনিয়ন পরিষদের স্টোর থেকে চাল বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন, গত বুধবার এবং বৃহস্পতিবার সুবিধা ভোগীদের মাঝে ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণ করা হয়। উপকার ভোগীরাই এই চালগুলো বিক্রি করে করেছেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এসআই নাজমুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থল পৌঁছান। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ৮৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. কাওছার হাবীব বলেন, কেউ চালের মালিকানা দাবি না করায় বস্তাগুলো উদ্ধার করে রাতেই ওই ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সীলগালা করে রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, তদন্ত করে ভিজিডি’র চাল প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।