শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

পবিত্র রোজায় মুখের যত্ন

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫০ জন নিউজটি পড়েছেন
ইসলাম

পবিত্র রমজান মাস চলে এসেছে। এই সময় মুখের বাড়তি যত্নের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কারণ, রোজায় আমাদের মুখের স্বাস্থ্যে কিছু পরিবর্তন আসে। কিন্তু অনেকেই এ বিষয়ে সচেতন থাকেন না। মুখের কিছু সমস্যা এবং এই সময়ে মুখের সুস্বাস্থ্যে কী করণীয়; আসুন, জেনে নিই।

মুখ শুষ্কতা

সারা দিন পানি পান না করায় লালা নিঃসরণ কমে মুখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে লালার স্বাভাবিক কাজ যেমন দাঁতকে পরিষ্কার রাখা, জীবাণু প্রতিহত করা, মুখ পিচ্ছিল রেখে কথা বলতে সাহায্য করা এবং ঘর্ষণজনিত ক্ষুদ্র ক্ষত থেকে রক্ষা করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে মাড়ি রোগসহ দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

করণীয়: ইফতারের পর থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত তরল পান করতে হবে। বাজারজাত কোমল পানীয় বা কৃত্রিম ফলের জুস পরিহার করে বিশুদ্ধ পানি, লেবুর শরবত, মৌসুমি ফলের জুস, ডাব, ইসবগুলের ভুসি জাতীয় তরল পান করতে হবে। সাহ্‌রির শেষ সময়ের ৩০ মিনিট আগে খাবার খেতে হবে। এর ২০ মিনিট পর পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো। যাদের মুখ অতিরিক্ত শুষ্ক হয়, তারা সাহ্‌রির পর দুটি এলাচি দানা চিবিয়ে খেতে পারেন। মুখ খুব বেশি শুষ্ক থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মুখের দুর্গন্ধ

রমজানে মুখের দুর্গন্ধে অনেকেই বিব্রত হন। গবেষকদের মতে, রোজা অবস্থায় মিসওয়াক করা যেতে পারে। অনেকেই ইফতার শেষে দাঁত ব্রাশ করেন না, আবার কেউ কেউ আলসেমি করে সাহ্‌রির পরও দাঁত ব্রাশ করেন না। এতে মুখের শুষ্কতা আর সারা দিন না খাওয়া ইত্যাদি কারণে মুখের ভেতরকার জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে। জিহ্বা, ঠোঁট, গাল কম নড়ার কারণে দাঁতের পৃষ্ঠে জমে থাকা খাদ্যকণা ও জীবাণু নানা রোগসহ মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে।

করণীয়: ইফতার ও সাহ্‌রির পর অন্তত দুই মিনিট করে নিয়মানুযায়ী দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সাহ্‌রির পর ডেন্টাল ফ্লস করা, প্রয়োজনে অ্যালকোহলমুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার, অজুর সময় ভালোমতো কুলি করা ও মাড়ি ম্যাসাজ করা জরুরি।

খাবারে অসচেতনতা

রোজায় চিনি দিয়ে তৈরি শরবতসহ মিষ্টান্ন খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এতে দাঁতের ক্ষতি হয়। অন্যদিকে ভাজাপোড়া থেকে অ্যাসিডিটির ফলে পেটের অ্যাসিড মুখে এসেও দাঁত ক্ষয় করতে পারে।

করণীয়: খাবারের তালিকা স্বাস্থ্যবান্ধব হতে হবে। পর্যাপ্ত তরল পানের পাশাপাশি মৌসুমি ফল, দুধ, টক দই, ডিম, মুড়ি, ছোলা, চিড়া, পনির, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছসহ আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।

* ইফতারের পর থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত তরল পান করতে হবে। * ইফতার ও সাহ্‌রির পর অন্তত দুই মিনিট করে নিয়মানুযায়ী দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করতে হবে। * পর্যাপ্ত তরল পানের পাশাপাশি মৌসুমি ফল, দুধ, টক দই, ডিম, মুড়ি, ছোলা, চিড়া, ছোট মাছসহ আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
অন্যান্য অসুখ অনিয়ন্ত্রিত হওয়ার আশঙ্কা

রোজায় বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবেটিস, যকৃতের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। শরীরের অন্যান্য রোগের সঙ্গে মুখের রোগের যোগসূত্রের বিষয়টি স্পষ্ট।

করণীয়: রোজার আগেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের পরিবর্তিত মাত্রা ও সময় অনুসরণ করতে হবে। রক্তের সুগার অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

এরপরও যদি মুখের কোনো সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত অনুমোদিত দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোজা রেখেও অনেক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English