শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

মোবারক মাহে রমজান

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১ মে, ২০২১
  • ৯৪ জন নিউজটি পড়েছেন
রমজানুল মোবারক

আজ ১৪৪২ হিজরির অষ্টদশ রমজানুল মোবারক। নফসের কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রিত করে ‘রোজা’। তাই আত্মসংযম প্রদর্শনের মাস রমজান। নবি করিম (সা.) বলেন, এটা ধৈর্যধারণ ও আত্মসংযমের মাস। প্রতিফল নিশ্চিতভাবে জান্নাত। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে রোজা তাকে সম্বোধন করে বলে, আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আজ সারা দিনের জন্য খানাপিনা তোমার ওপর হারাম করেছেন। এ সময় হালাল উপার্জিত খাদ্য এবং পানীয় তোমার জন্য জায়েজ নয়।

রোজা বলে, আজ তোমার মালিক মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন, তোমার যৌন ক্ষুধার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। অতএব এ সময়ের মধ্যে তোমার বৈধ স্ত্রীর সঙ্গে মিলনকে হারাম ঘোষণা করেছেন। রোজা আরো বলে, সারা দিনের দুঃসহ ক্ষুধা-পিপাসার পর যখন তুমি ইফতার করবে তখন তুমি পরিশ্রান্ত হয়ে আরাম করার পরিবর্তে উলটো সালাতুত তারাবির নামাজের জন্য এবং বছরের অন্যান্য দিনের চাইতেও বেশি বেশি ইবাদত করো।

রোজা আমাদের এটাও শিক্ষা দেয়, দীর্ঘস্থায়ী সালাতুত তারাবির নামাজ আদায়ের পর যখন বিশ্রাম করতে যাবে তখন সকাল পর্যন্ত বেহুঁশ হয়ে ঘুমিয়ে থাকবে না। শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করো, সুবহে সাদিকের পূর্বে সাহরি খেয়ে দেহকে শক্তিশালী করো, আরেকটি পূর্ণ দিবস রিপুর দাসত্বমুক্ত জীবনের ট্রেনিং তোমাকে গ্রহণ করতে হবে। এভাবে পুরো এক মাস ক্রমাগত নফসের তিনটি সবচেয়ে বড় এবং সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দাবি ও লোভ-লালসাকে একটি কঠিন নিয়মের বাঁধনে আবদ্ধ করে রাখা হয়।

এর ফলে ব্যক্তিসত্তার মধ্যে এক বিরাট শক্তি যুক্ত হয়, যা আল্লাহর মর্জি অনুসারে নফস ও দেহের ওপর শাসনক্ষমতা চালাতে সক্ষম হয়। সারা জীবনে শুধু একবারের জন্য এ ট্রেনিং ব্যবস্থা করা হয় নাই। বরং বালেগ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতি বছর দীর্ঘ এক মাস এ কাজে ব্যয় হয়। রিপু ও কুপ্রবৃত্তির ওপর আপন ব্যক্তিত্বের বাঁধন বছরে বছরে নবায়িত ও শক্ত হয়। ফলে আল্লাহর নির্ধারিত প্রতিটি কাজে সে তার দেহ ও যাবতীয় শক্তি নিযুক্ত করতে পারে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয় এমন সব ভালো কাজের চেষ্টা সে করতে পারে। আল্লাহর নিষিদ্ধ প্রত্যেকটি পাপ কর্ম রুখে দাঁড়াতে পারে এবং যাবতীয় লোভ-লালসা, আবেগ-উচ্ছ্বাসকে আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারে। সে নিজের লাগাম নফসের হাতে ছেড়ে দেয় না, তাই নফস তাকে যে দিকে ইচ্ছা সে দিকে টেনে নিতে পারে না, প্রভুত্বে রজ্জু তার নিজের হাতে ধরে রাখে।

নফসের যে সব লালসা যে সময় যতখানি এবং যেভাবে পূর্ণ করার অনুমতি আল্লাহপাক দিয়েছেন, সে তা নিয়ম অনুসারেই পূর্ণ করে। সে নিজ দেহ রাজ্যর ওপর এক শক্তিশালী শাসনকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বস্তুত মানুষের মধ্যে এ শক্তি সৃষ্টি করা রোজার মূল উদ্দেশ্য। তা অর্জিত না হলে নবি করিম (সা.) বলেছেন, শুধু খানাপিনা পরিত্যাগের মধ্যে আল্লাহর কোনো আবশ্যকতা নেই। আর এজন্য বলা হয়েছে রোজা আত্মসংযমের মাস। আর এ আত্মসংযম অর্জনের অনিবার্য ফল বা পুরস্কার হচ্ছে বেহেশত। আর এজন্য রোজাদারের ওপর আল্লাহপাক এত খুশি হয়ে থাকেন যেন রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ তার নিকট মৃগনাভির সুগন্ধির চেয়েও উত্তম।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English