করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গণপরিবহন চালুর দাবিতে দেশজুড়ে বাস টার্মিনালগুলোতে বিক্ষোভ করছেন সড়ক পরিবহন শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর সায়দাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনালে হয়েছে।
সমাবেশে তারা বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারীতে সব কিছু চালু থাকলেও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে ৫০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।এতে তাদের জীবিকা নির্বাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
“অথচ ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা, পিকআপ- সব চলছে। তাহলে গণপরিবহন চলবে না কেন? পরিবহন শ্রমিকরা তারা রাস্তায় নেমে এলে তার দায়দায়িত্ব ফেডারেশন নেবে না।”
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন বলেন, রাজধীতে চারটি স্থানে এবং দেশের সব বাস টার্মিনালে সকাল ১১টা থেকে একযুগে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে।
লকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন চালু করার দাবিতে রোববার রাজধানীর গাবতলীতে বিক্ষোভ মিছিল করে গাবতলী বাস টার্মিনাল মালিক-শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সদস্যরা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিলকডাউন শিথিল করে গণপরিবহন চালু করার দাবিতে রোববার রাজধানীর গাবতলীতে বিক্ষোভ মিছিল করে গাবতলী বাস টার্মিনাল মালিক-শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সদস্যরা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিমহাখালী বাস টার্মিনালে সমাবেশে ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছাদিকুর রহমান হীরু বলেন, “শ্রমিক কর্মচারী ও মালিকদের জীবনের সঙ্গে জীবিকার কথাও আমাদের ভাবতে হবে। শুধু গণপরিবহন ছাড়া আর সবই চলছে। আমরা চাই সরকার পরিবহন শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে অতি দ্রুত গণপরিবহন চালু করুক। অন্যথায় ৪ তারিখে জেলায় জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যলয় ঘেরাও কর্মসূচি আমাদের রয়েছে।”
সকাল পৌনে ১১টার দিকে গাবতলীতে ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে পরিবহন শ্রমিকেরা বিক্ষোভে শুরু করে। বিক্ষোভ শেষে গাবতলী ও এর আশপাশ এলাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা মিছিল করেন।
ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন সমাবেশে বলেন, “আমাদের তিন দাবি- স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, সড়ক পরিবহনশ্রমিকদের আর্থিক অনুদান ও খাদ্যসহায়তা দিতে হবে এবং সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০ টাকায় ওএমএসের চাল দিতে হবে।”
সমাবেশে আরেক শ্রমিক নেতা বলেন, “মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ গাড়ি না চললে শ্রমিকেরা টাকা পান না। মালিকদের কেউ কেউ প্রতি সপ্তাহে চাল, ডাল, তেল, আলু দিচ্ছে। কিন্তু এই সাহায্য যথেষ্ট নয়। আমরা সবাই এই সহায়তা পাই না। অনতিবিলম্বে গণপরিবহন চালু করুন।”