পুঠিয়ায় হোটেল মালিকের মহানুভবতায় ফ্রিতে মিলছে ভিক্ষুকদের দুপুরের খাবার। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছেন উপজেলা সদরের সোনার বাংলা হোটেলে মালিক বাবুল মিয়া (৫০)। তার এ ফ্রিতে দুপুরের খাবার মিলে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার। বর্তমানে এ খাবার খেতে উপজেলার আশেপাশের ভিক্ষুকরা ভিড়জমায় তার হোটেলে। শুক্রবার হলেই যেন তাদের এক অন্যরকম অনুভুতি দেখা যায় উপজেলা সদরের আশেপাশে ভিক্ষা করতে আসা ভিক্ষুকদের। দুপুর ১২টার পর থেকে এসব ভিক্ষুকদের মিলন মেলায় পরিণত হয় হোটেলটি। এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে হোটেলের মালিক বাবুল মিয়া এ আয়োজন করে আসেছেন। অত্র উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকায় প্রথম কোন হোটেল থেকে ভিক্ষুকদের ফ্রিতে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হোটেল মালিক বাবুল মিয়া পুঠিয়া পৌরসভার রামজিবপুর ওয়ার্ডের মৃত নুরুজ্জামান ছেলে। তার বাবাও একজন প্রতিষ্ঠিত হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন।
তার এ কাজে সহযোগিতা করে হোটেলে কর্মরত কর্মচারীগণ ও তার ছেলে। গত রোজার মাসে হোটেল বন্ধ থাকায় এ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিলো। বর্তমানে হোটেল খুলতে পেরে তার এ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছেন বলে হোটেল মালিক বাবুল মিয়া জানান। শুক্রবার তার হোটেলে গিয়ে দেখা যায় হোটেলের সব সিট পরিপূর্ণ হয়ে বসে আছে নিম্ন আয়ের এসব মানুষগুলো। কিছুক্ষণ পর সবার টেবিলে খাবার দেওয়া শুরু হয়। সবাইকে গরুর গোস্ত দিয়ে ভাত দেওয়া হচ্ছে। যারা গরুর গোস্ত খায় না তাদেরকে ডিম দিয়ে পেট পুরে খাবার খেয়ে বিদায় দেওয়া হচ্ছে। বিদায়ের সময় যে যেভাবে পারেন দোয়া করছেন। হোটেল মালিক বাবুল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি হোটেল ব্যবসা শুরু করেছি প্রায় দুই দশক আগে। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা আমার হোটেলে খাবারের জন্য আসলে তাদেরকে আমি যথা সম্ভব খাবার দিয়ে সহযোগিতা করতাম। সেসময় থেকেই আমার এ ধরনের ইচ্ছা ছিলো। বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আল্লাহর রহমতে আমার সে সক্ষমতা হওয়ায় আমি এটা করতে পারচ্ছি। এছাড়াও তিনি বলেন, রিজিকের মালিক মহান আল্লাহ্।