সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন

মোংলায় দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা দুইদিনে শনাক্ত ৪৫ জন

মোংলা প্রতিনিধিঃ মনির হোসেন
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
  • ১০০ জন নিউজটি পড়েছেন
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি? ঝুঁকিতে কারা? সুরক্ষার উপায়?

করোনা আক্রান্তের দিক দিয়ে ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলা। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন করোনা রোগী। মোংলায় গত এক সপ্তাহ ধরে করোনার উর্ধ্বমুখী সংক্রমণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মানুষ। পরিস্থিতি চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইতিমধ্যে দ্রুত করোনা সংক্রমণের জন্য মোংলাকে হটস্পট ঘোষনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ৩০ মে রবিবার থেকে পৌরশহরে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার দক্ষিণ বাংলা ডটকমকে বলেন, মোংলায় করোনা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ৩০ মে রবিবার থেকে পরবর্তী রবিবার পর্যন্ত ৮ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। বিধিনিষেধ বলা হয়, মাস্ক পড়া ব্যতীত কাউকে রাস্তায় পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, পৌর শহরে প্রবেশ সংকুচিত ও সীমিত থাকবে, জরুরী পরিবহন ব্যতীত আর কোনো যানবাহন শহরে ঢুকবেনা। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে। ঔষুধ ও কৃষিপণ্য ব্যতীত সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান সকাল ৬ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্য এলাকা থেকে, লাইটার জাহাজ, বড় জাহাজ থেকে কেউ পৌরশহরে প্রবেশ করতে পারবেনা। প্রয়োজনে খাদ্যপণ্য পৌরসভার লোকজন জাহাজে পৌঁছে দিবে। নদীর পারাপারের জন্য সর্বোচ্চ ১৬ জনের বেশি বহন করা যাবেনা এবং সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর থেকে মোংলায় করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। গত মাসের ২০ তারিখ থেকে হাসপাতালে ‌করোনা শনাক্তে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেষ্ট শুরু হলে ১ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এভাবে প্রতিদিনই মোংলায় করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। গত দুইদিনে ৬২ জন করোনা পরিক্ষা করিয়েছেন। তার মধ্যে ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে শনাক্তের হার ৭০ শতাংশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জীবিতেষ বিশ্বাস দক্ষিণ বাংলা ডটকমকে বলেন, করোনার প্রথম দফায় ২০২০ সালে মোংলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৩ জন, যা ছিল জেলার অন্যান্য জায়গার তুলনায় খুবই কম। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেষ্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই করোনা আক্রান্তের হার বাড়তে শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে করোনা রোগীতে ভরে গেছে। এভাবে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যারা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

শেখ আব্দুল হাই ব্লাড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম দক্ষিণ বাংলা ডটকমকে বলেন, মোংলায় করোনা পজেটিভ সবার বাড়িতে পূর্বের ন্যায় লাল পতাকা টানানো উচিৎ। করোনা পজেটিভ হয়েছেন এবং তাদের বাড়ির অনেকেই কোনো নিয়ম কানুন মানছেন না। যততত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মোংলাবাসীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। এ ক্ষেত্রে সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English