শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

উপনির্বাচনে বিএনপি না থাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ‘দৌড়’ বেড়েছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন
শেখ হাসিনার সরকার চায় সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সততা ও নিরপেক্ষতা: কাদের

ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লায় শূন্য তিনটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি না থাকায় দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ‘দৌড় বেড়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার এমন মন্তব্য আসে।

ঢাকা-১৪, সিলেট-৩ এবং কুমিল্লা-৫ আসনেরর উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনের প্রসঙ্গ ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এবার মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। খুব একটা অসুবিধা নেই, এই কথা মনে করে অনেকেই আবার প্রার্থী হচ্ছেন।

“পায় আর না পায় প্রার্থী হতে চায়। কারণ বিএনপি নেই শুনেছে। সেই জন্য প্রার্থিতার দৌড়ও বেড়ে গেছে।”

মহামারীর কারণে আটকে থাকা শূন্য এই তিনটি আসনের উপনির্বাচনে ১৪ জুলাই ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, সংসদীয় এসব আসনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ১৫ জুন। বিএনপি উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা না হলেও তিনি ‘সাধারণ কিছু দিক নির্দেশনা’ দিয়েছেন।

“আমি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কাউকে মনোনয়ন দেব। যারা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং দুঃসময়ে ছিলেন, এমন একটি ধারণা তিনি আমাকে দিয়েছেন।

“এখানে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকবে। দলীয়ভাবেও রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে। নেত্রীরও নিজস্ব একটি টিম আছে। সেই টিম দিয়ে তিনি মাঠ পর্যায়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আশা করি আমরা যথাযথ ব্যক্তিকে মনোনয়নটা দিতে পারব।”

দলে নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, মাদাকাসক্ত এই ধরনের লোক এবং যারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি, এদেরকে কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সদস্য করা যাবে না। এটা আমরা বারবার বলেছি।

“আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। কাউকে খুশি ও দলভারী করার জন্য কেউ যদি বিতর্কিত লোকদের টেনে আনেন তাহলে তাকেও কিন্তু শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রত্যেকটা টিমকে জবাবদিহি করতে হবে।”

অপরাধীকে ‘প্রশ্রয় না দেওয়ার’ নির্দেশনা ও ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ না করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। দুঃসময়ে তারাই পাশে থাকে। সুসময়ের কোকিলরা তখন সটকে পড়ে।”

কর্মীর তুলনায় এখন নেতা বেড়ে গেছে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এখানে বলা যায় আওয়ামী লীগে নেতা কমে গেছে। কারণ পরিচয় নাইতো। এই ঢাকা মহানগর উত্তরে ১৩০০-১৫০০ ইউনিট কমিটি রয়েছে।

“এখানে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে থাকলে হবে না। নেতা না হলে নেতৃত্ব দিবে কেমনে। নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে কর্মীদের থেকে। ঢাকা শহর হলো পার্টির ইঞ্জিন। ইঞ্জিন যদি না চলে? বগি চলবে? একে সচল করতে হবে।”

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ঢাকা সিটির অসংখ্য কমিটি দুইজনের। অসংখ্য কর্মী কাজ করেন। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরলে স্ত্রী ও মা-বাবা জিজ্ঞেস করলে পরিচয় বলতে পারে না।

“পরিচয় তারা আওয়ামী লীগ করে। অথচ পদ পড়ে আছে, কিন্তু দেওয়ার কেউ নাই। যারা এই পরিচয় দেওয়া থেকে বঞ্চিত করছেন, তারা সংগঠনকে বঞ্চিত করছেন।”

যেসব সাংগঠনিক শাখার সম্মেলন হয়েছে, নিয়মিত কমিটি রয়েছে, সেগুলোতে সদস্য সংগ্রহ বই দেওয়া শুরু করবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি আমরা আমাদের সভা-সমাবেশগুলো করতে থাকি। আমাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযান ঢাকঢোল না পিটিয়ে, টিমগুলো ঘরে ঘরে গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করবে।”

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English