শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

বিকাশ, রকেট, নগদের ওপর বাড়তি কর প্রত্যাহার চায় আইসিএবি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ৫৮ জন নিউজটি পড়েছেন
বিকাশ, রকেট, নগদের ওপর বাড়তি কর প্রত্যাহার চায় আইসিএবি

বিকাশ, রকেটের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফএস) থেকে সেবা নেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিম্নবিত্তরা। অথচ এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর করহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলমান কোভিডের সময়ে গ্রাহককে আরও বেশি এমএফএস সেবার প্রতি আকৃষ্ট করতে এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করা উচিত।

সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের আয়োজনে (আইসিএবি) আজ শনিবার অনুষ্ঠিত ‘ভ্যাট, আয়কর, শুল্ক কর এবং জাতীয় বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।

আইসিএবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান খসরু এতে স্বাগত বক্তব্য দেন। আইসিএবির সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ূন কবীরের সঞ্চালনায় এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাউন্সিল সদস্য মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং স্নেহাশীষ বড়ুয়া। আর সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিএবির সদস্য সিদ্ধার্থ বড়ুয়া।

আইসিএবি বলেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমএফএস কোম্পানিগুলোর করহার প্রস্তাব করা হয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর তালিকা–বহির্ভূতের ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত দেশে কোনো এমএফএস প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সব এমএফএসকেই ৪০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশনে এ হার নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে আইসিএবি বলেছে, ঘাটতি বাজেট হয়েছে, তবে তা নেতিবাচক নয়। অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে ধার করে হলেও সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে ও জনগণের কাছে অর্থের প্রবাহ বাড়বে।

আরও বলেছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর, অর্থাৎ কর-জিডিপি হার প্রস্তাবিত বাজেটে আরও কমে গেল। আইসিএবি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ উদ্যোগে তথ্য যাচাইকরণ পদ্ধতি (ডিবিএস) চালু করায় সব করদাতা কোম্পানি সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধে বাধ্য হবে। বিষয়টি রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

আইসিএবি বলেছে, সাধারণ ছুটি, লকডাউন, উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিভিন্ন সময় বন্ধ থাকায় কারণে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। সে বিবেচনায় সামাজিক সুরক্ষা খাতে আরও বরাদ্দ দরকার। আর নতুন প্রস্তাবে সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কর্তনের হার ৫ থেকে বেড়ে ৭ শতাংশ হয়েছে। এতে আগের বছরের তুলনায় কর চাপ বাড়বে। এরও যৌক্তিকীকরণ দরকার।

এ ছাড়া বড় শহরগুলোর বাইরে ২৫০ শয্যার সাধারণ হাসপাতাল ও ২০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির প্রস্তাবটি ভালো হলেও ২০০ থেকে ২৫০ শয্যা সংখ্যাটি যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে বলে মনে করে আইসিএবি।

আইসিএবি বলেছে, উৎসে কর কর্তন বৃদ্ধির ফলে পণ্য সরবরাহকারী এবং অবকাঠামো কোম্পানিগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভ্যাট ফাঁকি, ব্যর্থতা বা অনিয়মের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দ্বিগুণ জরিমানার পরিবর্তে সমপরিমাণ করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আরও কমিয়ে আনা দরকার।

একদিকে রয়েছে বিদ্যমান কর কাঠামোয় নানা দুর্বলতা ও অসংগতি। অন্যদিকে সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। অপচয় দূর করতে একটি ‘ব্যয় কমিশন’ গঠন করা জরুরি। আর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘ মেয়াদে দরকার ‘প্রগতিশীল কর নীতি’ প্রণয়ন করা।

আইসিএবি সভাপতি মাহমুদুল হাসান খসরু বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন কর ছাড়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। তবে যেহেতু জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়, তাই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সবার আগে। এ জন্য পরিকল্পনামাফিক ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা চাই।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি হুমায়ূন কবির বলেন, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর ব্যবসায়ের খরচ বাড়াবে। এটা না কমালে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসবে না। আর দেশে বৈষম্য বাড়ছে। সরকারি টাকা নানাভাবে অপচয় হচ্ছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি কমিশন গঠন করতে হবে।

সংস্থাটির কাউন্সিল সদস্য স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, অন্তত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রগতিশীল করনীতি দরকার। একটু কমলেও প্রতিযোগী দেশগুলোতে করপোরেট কর যা আছে, সে তুলনায় আমাদের এখনো তা বেশি।
কিছু প্রস্তাব অভিনন্দনযোগ্য

আইসিএবি বলেছে, এক ব্যক্তির কোম্পানির করহার কমিয়ে ২৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা যৌক্তিক হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার এবং তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার আড়াই শতাংশ করে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অভিনন্দনযোগ্য।

কোনো প্রতিষ্ঠান তার মোট কর্মচারীর ১০ শতাংশের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগ দিলে নিয়োগকারীকে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে আইসিএবি। বলেছে, নারী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত বিক্রয় সীমা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত উপকৃত হবে।
বাজেটে ক্লাউড সার্ভিস, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, ই-বুক প্রকাশনা, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস এবং আইটি ফ্রিল্যান্সিং সরবরাহকারীদের ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ার গতি বাড়বে।

আইসিএবি কিছু প্রস্তাবকে ভালো বলেও কিছুকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, এমএফএস সেবাদাতা কোম্পানির ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তি কর দেশের সামগ্রিক ডিজিটালাইজেশনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় শিল্পের উৎসাহ দিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আমদানি–নির্ভরতা দূর করতে হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারক যেমন মাদারবোর্ড, ইউপিএস, স্পিকার, সাউন্ড সিস্টেম, ইউএসবি কেব্‌ল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শর্তসাপেক্ষে ১০ বছরের কর ছাড় প্রস্তাব করা হয়েছে। এতেও ডিজিটাল সেবা সহজে ও কম খরচে নাগরিকদের কাছে পৌঁছাবে।
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় অটোমোবাইল-থ্রি–হুইলার ও ফোর–হুইলার উৎপাদনকারী কোম্পানিকে এবং কিছু হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস, কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেস ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের পণ্যের উৎপাদনকারী কোম্পানিকে শর্ত সাপেক্ষে ১০-২০ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। এতে দেশে শিল্পের বিকাশ এবং আমদানি বিকল্প শিল্পোৎপাদন ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করে আইসিএবি।
সংস্থাটি আরও বলেছে, দেশের বাইরে সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে ভ্যাট শূন্য হার করায় ভ্যাট আইনের অস্পষ্টতা দূর হয়েছে। ভ্যাট নিরীক্ষণের উদ্দেশে লিমিটেড কোম্পানিগুলোর বার্ষিক আর্থিক বিবরণী বাধ্যতামূলক জমা দেওয়ার প্রস্তাবটি ভালো।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English