বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধুনিক বৃহৎ ব্যক্তি মালিকানাধীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল এর উদ্যোগে রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। চিকিৎসা গ্রহন করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের দরিদ্র-গরিব ও সাধারণ দুই সহস্রাধীক রোগী। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের পাশাপাশি পেয়েছেন সকল প্রকার রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষায় ফ্রি।
দিনভর মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে রোগীরা সবধরনের রোগের চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। এখানে ছিলেন সাজারী, শিশু, শিশু সাজারী, ইউরো সাজারী, মেডিসিন, হৃদ রোগ, অর্থোপেডিক্স, নাক, কান ও গলা, ক্যান্সার, দন্ত রোগ, চক্ষু, চর্ম রোগ, স্ত্রী রোগ, বক্ষব্যাধি ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এদিকে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বিএমএ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক প্রফেসর মোঃ মনিরুজ্জামান, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর গোলাম মাহমুদ সেলিম, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডাঃ সুদিপ কুমার এবং চিকিৎসক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অশংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তি।
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সম্পর্কে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের ব্যাবস্থপনা পরিচালক শারমিন আনোয়ার বলেছেন, বরিশালের বিশিষ্ট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দের সহযোগীতায় এই ক্যাম্পটি সম্পূন্ন করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বরিশালের চাঁদমারীর বাঁন্দ রোডস্থ রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে এই ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন দ্বারা ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ন ফ্রি করা হয়েছে। এছাড়া ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন’র আত্মার শান্তি কামনায় বাদ যোহর হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরো বলেন, এই আয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরা তাদের ফি নেয়নি। আমি তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি বলেছেন, হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের এই আয়োজনে দক্ষিণাঞ্চলের অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া দরিদ্র ও গরীব জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবায় আমাদের এই সামান্য উদ্যোগে যদি কেউ উপকৃত হন, সেটাই আমাদের সার্থকতা। পাশাপাশি এতে গরীবের ডাক্তার নামে পরিচিত ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেনের আত্মায় শান্তি পাবে।
এদিকে রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত “ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে। উল্লেখ্য ২০২০ সালের ৭ জুন রাতেই তার অসুস্থ্যতা বাড়তে থাকে। ৮ জনু সকাল থেকে তার শ্বাস কষ্ট শুরু হয়ে যায়। মুহুর্তের মধ্যে তাকে হাসপাতালে দেখতে ছুটে আসেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ মাসুম আহম্মেদ। সিটি স্ক্যান’র রিপোর্ট দেখে তাকে জরুরী ভিত্তিতে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন। ওই দিন তার পরিবার তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিকেলে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য। প্রথমে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। কিন্তু বেড খালি না থাকায় ফিরে যেতে হয়। এরপর নেওয়া হয় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও একই অবস্থা। এদিকে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরে তাকে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় এএমজেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ১০ জুন মঙ্গলবার সকালে নগরীর বান্দ রোডের রাহাত-আনোয়ার হাসপাতাল চত্বরে ডা. আনোয়ার হোসেনের প্রথম নামাজে জানাজা এবং বেলা ১২টায় ঝালকাঠীর বিনয়কাঠী ইউনিয়নের নাক্তা গ্রামের আজিজিয়া নূরানী মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পরিবারিক গোরস্থানে মা মরহুমা হালিমা বেগমের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন বলে নিজে থেকেই তার সন্দেহ ছিলো। তবে প্রাথমিক অবস্থায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হলে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঝালকাঠী জেলার স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাউথ এ্যাপোলো (প্রাঃ) লিমিটেড’র পরিচালক, সাউথ এ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক, বাংলাদেশ কেমিস্ট এ্যান্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি বরিশাল শাখার কোধাদক্ষ, বরিশাল ক্লিনিক এ্যাড ডায়াগনস্টিক এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল আউর্বেদি মেডিকেল কলেজের পরিচালক, বরিশালস্থ বিণয়কাঠী কল্যান সমিতির সভাপতি, বরিশাল প্রাইভেট প্রাক্ট্রিশনার এসোসিয়েশনের (বিপিএমপি) এর আহবায়ক, বরিশাল ক্লাবের সদস্য, মানপাশা শেরে বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, কর্ণকাঠী জিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বরিশালের আজকালের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। এই একটি দিন দেশের মানুষের মধ্যে ভদাভেদ না রেখে সকলের সুখে দুঃখে আমরা যেন এক কাতারে দাড়াই, আমাদের এটাই আসল উদ্দেশ্য। তাই প্রতি বছরের এই দিনে আমার এ আয়োজন করে থাকি। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অপেক্ষকৃত পিছিয়ে পড়া দরিদ্র ও গরীব জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবায় আমাদের এই সামান্য উদ্যোগ উপকৃত হয়েছেন আর সেটাই আমাদের বড় পুরুস্কার। অনেক রোগি আছেন যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছেও ভিড়তে পারেন না। রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল শুধু ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পই নয়, পরীক্ষা নীরিক্ষায়ও ঐদিন বিশেষ ছাড় দিয়েছে। বিজয়ের এই দিনে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহযোগীতা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। তিনি আরো বলেন, এই আয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরা তাদের ফি নেন নি। আমি তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে মোবারকবাদ জানাই। আমাদের আহবানে তারা সাড়া দিয়ে ঐ দিন মেডিকেল ক্যাম্পে বিনা পারিশ্রমিকে রোগি দেখেছেন তারা। এই আয়োজনের কৃতিত্ব শুধু রাহাত আনোয়ার হাসপাতালেই নয়, এ কৃতিত্ব সেই সব চিকিৎসক ভাইদের যারা, দেশের বিজয় দিবসে নিজ গৃহে বিশ্রাম না নিয়ে পুরো দিন আত্মমানবতার সেবায় গরীব রোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের সহযোগীতা করেছেন।
আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পের কর্মসূচী পরিচালিত হবে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন দ্বারা ফ্রি চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ন ফ্রি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পের সকল আয়োজন সম্পূন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারমিন আনোয়ার। বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধুনিক বৃহৎ ব্যক্তি মালিকানাধীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের এই আয়োজনকে এ অঞ্চলের রোগীদের পাশাপাশি সকল মহল স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি গরিবের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন’র আত্মর শান্তি কামনা করেছেন তারা। এই ক্যাম্পে চিকিৎসা গ্রহন করবেন দক্ষিণাঞ্চলের দরিদ্র-গরিব ও সাধারণ প্রায় ২ হাজার রোগী। ইতোমধ্যে তারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এখানে থাকবেন সাজারী, শিশু, শিশু সাজারী, ইউরো সাজারী, মেডিসিন, হৃদ রোগ, অর্থোপেডিক্স, নাক, কান ও গলা, ক্যান্সার, দন্ত রোগ, চক্ষু, চর্ম রোগ, স্ত্রী রোগ, বক্ষব্যাধি ও ডায়াবেটিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন।