অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার পলাতক আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি মেজর সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন করেন তিনি।
ঘটনার ১০ মাস ২৫ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার টেকনাফ থানার সাবেক এই কনস্টেবল অনেকটা চুপিসারে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জামিনের পরবর্তী সময়ে শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন রেখেছেন আদালত। এদিকে অন্য আসামি সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মার জামিন শুনানি এবং মামলার চার্জ গঠনের জন্য একই দিন অর্থাৎ ২৭ জুন দিন ধার্য রয়েছে।
টেকনাফ থানার সাবেক এই কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম। তিনি বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সাগর দেব পলাতক ছিলেন। দুপুরে আদালতে জামিন শুনানির জন্য আবেদন করলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, কনস্টেবল সাগর মেজর হত্যামামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। আজ তিনি অ্যাডভোকেট দিলীপ দাশের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন করেন।
কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই এখন কারাগারে। একমাত্র তিনিই পলাতক ছিলেন। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’ সাগরকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানাও জারি করেছিলেন আদালত।
গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মুহাম্মদ রাশেদ খান।
হত্যার পাঁচদিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ (পরিদর্শক) লিয়াকত আলীকে প্রধান করে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।
আদালত মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন র্যাবকে। এরপর গত ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে সিনহা হত্যায় জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলার ৩ সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে (র্যাব)। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডটিকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ জন আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। আজ কনস্টেবল সাগর দেবকে কারাগারে পাঠান আদালত।