বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

বিধিনিষেধেও ঢাকার রাস্তায় ভিড় বাড়ছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন
বিধিনিষেধে ঢিলেমি ভাব

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের অষ্টম দিন আজ। অন্য সব দিনের চেয়ে ঢাকার রাস্তায় আজ গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি লক্ষ করা গেছে। বছিলা, আসাদগেট মোড়, কারওয়ান বাজার মোড়, শাহবাগ, পল্টন মোড়, মৎস্যভবন মোড় ও গুলিস্তানে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশার উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

এর মধ্যে কারওয়ান বাজারে দুপুর ১২টার দিকে দীর্ঘ সারিতে গাড়ি আটকে ছিল। মূলত সবই ব্যক্তিগত গাড়ি। গাড়ির চাপে এই যানজট তৈরি হয়। এ ছাড়া আসাদগেট মোড়, মৎস্য ভবন ও গুলিস্তানের মোড়গুলোয় সিগন্যালে কিছুক্ষণের জন্য হলেও গাড়ি আটকে থাকতে দেখা গেছে। ফুটপাতে মানুষকে হাঁটাহাঁটি করতেও দেখা গেছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট বলেন, আজ মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে বের হচ্ছেন। যাঁরা বের হচ্ছেন, তাঁরা ব্যাংক, বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল, বাজারে যাওয়ার কথা বলছেন। এই ট্রাফিক পুলিশ জানান, গতকাল বুধবারও শুধু ৮ ঘণ্টায় তিনি ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বছিলা ব্রিজের চেকপোস্টে তিনি এসব জরিমানা করেন। সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল বাইরে থেকে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করছিল।

বিভিন্ন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ব্রিজের পশ্চিম পাশের মানুষকে টিসিবির চাল কিনতেও এ পারে আসতে দেখা গেছে। এর বাইরে জমির ব্যবসা পরিচালনার কথা বলেও আসছেন অনেকে।

জরুরি সেবার যান বাদে অন্যান্য যান চলাচল ও কার্যক্রমে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সড়কে আজও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শাহবাগে বেলা ১১টা থেকে অভিযান শুরু হয়, যা চলে ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু পৌনে একটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষ এদিক–সেদিক ঘোরাফেরা করছে।

এই অভিযানে অন্তত ২৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া চলাচলের যৌক্তিক ও জরুরি কারণ দেখাতে না পারায় অনেককে জরিমানাও করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, যাঁরা যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি, তাঁদের অপরাধের মাত্রা বুঝে জরিমানা ও আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। তবে কতজনকে আটক ও জরিমানা করা হয়েছে, তা জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অসংখ্য মানুষকে জরিমানা ও আটক করা হয়েছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে দেখা যায়, যাঁদের চালান করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই নিম্ন আয়ের মানুষ। আজ দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে দেখা যায় মো. ফারুক (৩০) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীকে। তাঁর পা ও কোমরে সমস্যা থাকায় প্রতিবন্ধী কার্ড ঝোলানো ছিল। তিনি জানান, গতকাল কামরাঙ্গীরচরের বাসা থেকে রোগী নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে মহাখালীতে একটি হাসপাতালে নামিয়ে দিয়েছেন। এরপর নিজে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে ফেরার পথে বংশালে তাঁকে আটক করে চকবাজার থানা-পুলিশ।

সারা রাত চকবাজার থানায় ছিলেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিএমএম কোর্টে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাঁকে ১০০ টাকা জরিমানা করে।

মো. ফারুকের ব্যাটারিচালিত রিকশাটি পড়ে আছে চকবাজার থানায়। গাড়ি ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে মাথা ঘুরে পরে যান তিনি। সঙ্গে তাঁর স্বজনেরাও উপস্থিত ছিলেন। ফারুক , ‘আমি গরিব মানুষ। কাজ না করলে কী খাব? গাড়িটা না দিলে মারা যাব।’

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English