শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন

যে প্রেক্ষাপটে হাইতিতে প্রেসিডেন্ট খুন…

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ৪২ জন নিউজটি পড়েছেন
হাইতির প্রেসিডেন্ট খুনের সেই মুহূর্তের বিবরণ দিলেন তার স্ত্রী

অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এগুলো ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতির জন্য নতুন কিছু নয়। সন্ত্রাসীদের হাতে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে হাইতির ক্রমিক সংকটে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো।

ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে বিরোধীদের অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে মইসি বলেছিলেন, তাঁর সরকার উৎখাতের পাশাপাশি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি এসব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

বিরোধীরা মইসির অভিযোগ অস্বীকার করে। বিরোধীরা মইসির বিদায় চাচ্ছিল, এ কথা ঠিক। তবে হত্যার মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি মইসি করেন, তার পক্ষে অকাট্য কোনো প্রমাণ তিনি হাজির করেননি। ফলে সব মিলিয়ে তাঁর অভ্যুত্থান ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে পর্যবেক্ষক মহল ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ হিসেবেই বিবেচনা করছিল।

অভিযোগ বাস্তবিক বা রাজনৈতিক যা-ই হোক না কেন, মইসিকে শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানী পোর্ট অ-প্রিন্সে ৫৩ বছর বয়সী মইসির ব্যক্তিগত বাসভবনে ঢুকে পড়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। এই হামলায় তাঁর স্ত্রী মার্টিন মইসি গুরুতর আহত হন।

মইসি হত্যার পর হাইতিতে চলমান সংকট আরও গভীর হলো। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ক্লদে জোসেফ দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মইসির সন্দেহভাজন ঘাতকচক্রের সঙ্গে ইতিমধ্যে পুলিশের ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। সন্দেহভাজন চার ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আটকও হয়েছে একাধিক ব্যক্তি। অভিযান অব্যাহত আছে।

ক্লদে জোসেফ রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি এই কাজ করতে কতটা সক্ষম হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ফলে হাইতির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা এখনই বলা মুশকিল।

হাইতিতে অস্থিরতার মধ্যেই ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মইসি দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সময় মোটেই ভালো কাটেনি। তাঁকে নানামুখী ঝঞ্ঝা, বিক্ষোভ, বিরোধিতার মধ্য দিয়ে চলতে হয়।

মইসির বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, অপশাসন, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মইসি ব্যর্থ বলে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে। তাঁর বিরুদ্ধে পার্লামেন্ট নির্বাচন বিলম্বিত করার অভিযোগ আনা হয়। তিনি সংবিধানে পরিবর্তন এনে আরেক দফায় প্রেসিডেন্ট হতে চান বলেও সন্দেহ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগে হাইতিতে মইসির বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়ে আসছিল।

গত ফেব্রুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা তাঁর ক্ষমতার মেয়াদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। তারা তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় এক বছর ধরে ডিক্রি দিয়ে দেশ চালাচ্ছিলেন মইসি।

মইসির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ বলে দাবি করে বিরোধীরা। কিন্তু মইসি দাবি করেন, জটিলতার কারণে তিনি ঠিক সময়ে ক্ষমতায় বসতে পারেননি। এক বছর পর ক্ষমতায় বসেছিলেন তিনি। তাই তাঁর মেয়াদ আরও এক বছর আছে। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাইতির রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

বিরোধীরা যেদিন মইসির ক্ষমতাকাল শেষ বলে দাবি করে তাঁর পদত্যাগ চায়, ঠিক সেদিনই (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে গুরুতর এক অভিযোগ তোলেন। তিনি তাঁর সরকার উৎখাত ও তাঁকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টার অভিযোগ আনেন। কথিত অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ধরপাকড় শুরু করেন তিনি। ধরপাকড়ের এই তালিকায় দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিও ছিলেন।

মইসির শাসন অবৈধ উল্লেখ করে বিরোধীরা তাদের পছন্দসই অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করে। অন্যদিকে মইসিও ক্ষমতায় থাকতে অনড় থাকেন। এমন সংকটকে হাইতি গণমাধ্যম ‘দুই প্রেসিডেন্টের’ যুগ বলে বর্ণনা করে।

মইসি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিন্দা জানিয়েছে। সংকট নিরসনে হাইতিকে সহায়তা করার কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সংকট থেকে হাইতি খুব দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারবে বলে মনে হয় না। অন্তত ইতিহাস সে কথাই বলে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন, গার্ডিয়ান, আল–জাজিরা, রয়টার্স ও এএফপি

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English