শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

চুরি হওয়া মোবাইল ফোন চালু হবে না

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
  • ৬৯ জন নিউজটি পড়েছেন
গতির ভোগান্তিতে ফোর-জি ভোক্তারা

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা লোপা চৌধুরী গত ২৮ জুন অফিস থেকে রিকশায় ধানমন্ডির বাসায় ফিরছিলেন। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে এক ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ব্যাগে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের সঙ্গে স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনটিও ছিল। প্রিয় মোবাইল ফোনটির জন্য খুবই মন খারাপ হয় লোপার। বলছিলেন, আমি যদি সেটটি ব্যবহার না করতে পারি, তাহলে অন্য কেউ যেন এটি ব্যবহার করতে না পারে। কিন্তু সেটা কি সম্ভব? নিশ্চয় চোর ঐ সেট কারো কাছে বিক্রি করে দেবে এবং ক্রেতা সেটা ব্যবহারও করবে। হ্যাঁ, এখন লোপার ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে। আপনি চাইলেই আপনার চুরি যাওয়া সেটটি আর চোর চালু করতে পারবে না। আপনি সেটা বন্ধ করে রাখতে পারবেন।

দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট শনাক্তের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত ১ জুলাই থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বিটিআরসি। তবে এখনই কোনো অবৈধ সেট বন্ধ হচ্ছে না। তিন মাস সময় পাবেন গ্রাহকেরা। ১ জুলাইয়ের পরে চালু হওয়া সেটের যদি কোনোটি অবৈধ হয়, তাহলে গ্রাহক মেসেজ পাবেন।

বিটিআরসির কমিশনার এ কে এম শহীদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ৩০ জুন পর্যন্ত চালু থাকা সব সেটই বৈধ হিসেবে সিস্টেমে উঠে যাচ্ছে। প্রতিটি সিমের সঙ্গে সেটের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন যদি কারো নিবন্ধিত হ্যান্ডসেট চুরি হয়, তাহলে তিনি অভিযোগ দিলে ঐ সেট আর চালু হবে না। তিনি বলেন, এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজও অনেক সহজ হয়ে যাবে। তবে নিজের এনআইডি ব্যবহার করে যে সিম কার্ড গ্রাহক ব্যবহার করছেন, তিনি চাইলে তার সেই সিম যে কোনো বৈধ সেটে ব্যবহার করতে পারবেন। আর সেট অবৈধ হলে সিম কার্ডটি চালুই হবে না।

দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি হ্যান্ডসেটের চাহিদা রয়েছে, যার ৪০ শতাংশই অবৈধভাবে বাজারে এসেছে। বিটিআরসি বলছে, কারো হ্যান্ডসেট চুরি হলে যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে হ্যান্ডসেট নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা থাকবে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ দুটি হ্যান্ডসেট বিনা শুল্কে বিদেশ থেকে আনা যাবে। এনইআইআর-সংক্রান্ত সব সেবা দিতে বিটিআরসি থেকে মোবাইল অপারেটরগুলোকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার নম্বর ১২১-এ ডায়াল করে এবং কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে এ-সম্পর্কিত সেবা নেওয়া যাবে। কোনো কারণে মোবাইল অপারেটররা সেবা দিতে না পারলে বিটিআরসির হেল্পডেস্ক নম্বর ১০০-তে ডায়াল করে এ-সম্পর্কিত সেবা নেওয়া যাবে।

১ জুলাই থেকে যে কোনো মাধ্যমে মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে অবশ্যই হ্যান্ডসেটটির বৈধতা যাচাই করতে হবে। সেজন্য একটি পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি হ্যান্ডসেটের ক্রয় রসিদ সংরক্ষণ করতে বলছে বিটিআরসি। মোবাইল হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD লিখে space দিয়ে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বরটি লিখতে হবে। এরপর ১৬০০২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধতা সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হবে।

যে কেউ চাইলে তার হাতে থাকা মোবাইল হ্যান্ডসেটের বর্তমান অবস্থা জেনে নিতে পারেন। মোবাইল হ্যান্ডসেটে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করতে হবে। স্ক্রিনে অপশন এলে Status Check সিলেক্ট করতে হবে। তখন একটি অটোমেটিক বক্স আসবে, সেখানে মোবাইল হ্যান্ডসেটের ১৫ ডিজিটের আইইএমআই নম্বরটি লিখে পাঠাতে হবে। গ্রাহকের মোবাইলে তখন হ্যাঁ/না অপশন সংবলিত একটি অটোমেটিক বক্স আসবে। তাতে হ্যাঁ Select করে নিশ্চিত করতে হবে। ফিরতি মেসেজে ব্যবহূত মোবাইল ফোনের/হ্যান্ডসেটের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English