ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। কমছে না মৃত্যু। ১৯ সালের পর ২০ সালে ডেঙ্গু খুব একটা না ভোগালেও এবার ডেঙ্গু অনেকটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। তবু নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে। এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এবার মশা মারার কিটনাশক দোকানে দোকানেও বিক্রির ব্যবস্থা করার চিন্তা করছে সরকার।
ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৪০ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ১২ জন মারা গেছে জুলাই মাসে এবং আগস্টের ২৫ দিনে মারা গেছে ২৮ জন।
জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত কমবেশি করে করে মোট ৯৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপরের মাসে জুনে বেড়ে যায় প্রায় তিনগুণ। এ মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয় ২৭২ জন। জুলাইয়ে দিনে গড়ে ৭৪ জন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়। জুলাইয়ে মোট ভর্তি হয় ২২৮৬ জন। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে বেড়ে যায় অন্তত তিনগুণ। আগস্টের ২৫ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১৯৫ জন। দিনে অন্তত ২৪৮ জন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘণ্টায় ১০ জনের বেশি অর্থাৎ ৬ মিনিটে একজন করে মানুষ মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮ থেকে তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ২৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ২৩০ জন ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে ৪৮ জন।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৫৩ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে বাসায় ফিরেছে ৭৭২১ জন। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১০৯০। এরমধ্যে ঢাকায় ৯৮৭ জন ও ঢাকার বাইরে ১০৩ জন।
মশার কীটনাশক দোকানে বিক্রির ব্যবস্থা
সারা দেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ, দফতর/সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনার ১১তম আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, আগে একটা কোম্পানি কীটনাশক আমদানি করত। এখন ওপেন করে দেওয়া হয়েছে। এখন কিছু বেসরকারি কোম্পানি সেই কীটনাশক আনছে। আমরা সেগুলো দোকানে দোকানে বিক্রির ব্যবস্থা করব।
ছাদবাগান করলে ফুলের টবের মধ্যে কয়েক ফোঁটা কেরোসিন তেল দেওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে প্রতিদিন পানি সরাতে হবে না। কেরোসিন দিলে সেখানে লার্ভা হবে না। বিধিনিষেধের কারণে নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ বন্ধ থাকা, অনেকে বাসা খালি রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া এবার এডিস মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন মন্ত্রী।
উচ্চশিক্ষিত অনেক মানুষের বাসায় প্রচুর লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই দুঃখজনক, একটি মৃত্যুকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ২০২০ সালের সাফল্যের পর আশা করেছিলাম এবারও ডেঙ্গু কম হবে, কিন্তু নানা কারণে সেটা হয়নি।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় আলেম সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, এডিস মশা এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় আলেম সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার সকালে উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে ‘সুস্থতার জন্য সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, মেয়র কিংবা কাউন্সিলর কারও একার পক্ষেই এডিস মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এডিস মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, মসজিদের ইমাম বা খতিবগণ শুক্রবারের জুমার নামাজের খুতবায় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে আগত মুসল্লিদের উদ্দ্যেশে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় চলমান সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে পারেন।
ঢাকা-১৮ আসনের ৮টি থানার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।