বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

আলোচনায় গণটিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন
আলোচনায় গণটিকা

দেশে করোনার টিকা কার্যক্রম ছয় মাস পার হলেও এখনও স্বাস্থ্য খাতে মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে রয়েছে সেই টিকা সংগ্রহ, বিভিন্ন টিকার বৈশ্বিক অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই। এর মধ্যে পরীক্ষামূলক গণটিকা কার্যক্রম আর হবে না ঘোষণা এসেছে। ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট যারা গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকার প্রথম ডোজ দিয়েছেন, তাদের আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। যারা যে কেন্দ্রে প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ডোজও সেই কেন্দ্রে নিতে পারবেন। তবে কোনো কারণে কেউ যদি গ্রাম থেকে শহরে বা শহর থেকে গ্রামে থাকেন, এমন পরিস্থিতি নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ ৭ সেপ্টেম্বর

গণটিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় ডোজ দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গণটিকাদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় ডোজ শুরু হচ্ছে। দ্বিতীয় ডোজ শুরুর আগে আরও টিকা আসবে।

গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ঔষধাগার মিলনায়তনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রবাসী বাংলাদেশের উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ভেন্টিলেটর বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে গণটিকার দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, আগামী ৩০ আগস্ট সিনোফার্মের ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। আগের আরও ৩৫ লাখ ডোজ মজুদ রয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরের আগে যদি সাত-আট লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয় তবুও গণটিকার প্রথম ডোজ গ্রহীতাদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।

খুরশীদ আলম বলেন, সারা দেশে গণটিকা চলাকালে যে যেই কেন্দ্র থেকে টিকা নিয়েছেন, সেখানেই দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যাবে। কিছু কিছু দেশ আমাদের কাছে মডার্না ও ফাইজারের টিকা চাচ্ছে, এটা এখন দেওয়া সম্ভব নয়। শিগগিরই দেশে ৬০ লাখ ফাইজারের টিকা আসবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর শুধু নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া শুরু হয়। এরপর গণটিকা কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। গত ৭ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু করে। নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের সিটি করপোরেশন, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড ও বিভিন্ন অঞ্চলভেদে ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় টিকা কম থাকায় অনেককে টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

প্রবাসীদের পাঠানো ভেন্টিলেটর বিতরণ চলছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, উপহার হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওয়া ৫৬১টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ৩০০টি এখন বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাঠানো দুই চালানে ৫৬২টি পোর্টেবল আইসিইউ ভেন্টিলেটর দেশে এসেছে। বিমানবন্দরে এসে ভেন্টিলেটরগুলো গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আবদুল্লাহ।

এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা চার চিকিৎসক নেফ্রোলজিস্ট জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক, কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক মাসুদুল হাসান, জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ উস শামস চৌধুরী, কার্ডিওলজিস্ট চৌধুরী হাফিজ আহসান ও কানাডায় বসবাস করা চিকিৎসক আরিফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এসব ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে।

চীনা টিকা নিয়েও ওমরায় যাওয়া যাবে

চীনের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের অনুমোদন দিয়েছে সৌদি আরব। এর ফলে সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারী বাংলাদেশিদের ওমরাহ পালনে আর বাধা রইল না।

মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দিয়েছে বলে আরব নিউজ জানায়। যার ফলে চীনা টিকা নিয়ে ওমরাহ পালনের অনিশ্চয়তা কাটল।

এ দুটি অনুমোদনের মাধ্যমে দেশটিতে করোনার মোট ৬টি টিকা অনুমোদন পেল। এর আগে সৌদি সরকার করোনার চারটি টিকার অনুমোদন দেয়। এসব টিকা হলো ফাইজার বায়ো-এনটেক (২ ডোজ), অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা (২ ডোজ), মর্ডানা (২ ডোজ) ও জনসন অ্যান্ড জনসন (১ ডোজ)।

২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরুর পর হজ ও ওমরাহ পালন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছিল সৌদি সরকার। ছয় মাসেরও বেশি সময় স্থগিতাদেশ জারি রাখার পর গত বছর অক্টোবরে দেশীয় নাগরিকদের ওমরাহ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।

৯ আগস্ট থেকে পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া বিদেশি মুসল্লিদের কাছ থেকে পবিত্র ওমরাহ হজের আবেদন গ্রহণ শুরু করবে সৌদি আরব।

এ জন্য শর্তারোপ করা হয়, আবেদনকারীদের অবশ্যই টিকার ডোজ সম্পূর্ণ করতে হবে এবং সৌদি আরব যেসব টিকার অনুমোদন দিয়েছে, সেসবের ডোজ নেওয়া আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে খানিকটা বিপাকে পড়েন বাংলাদেশসহ অনেক দেশের ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক যাত্রীরা।

সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারী বাংলাদেশিরা যাতে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে পারেন, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর জন্য সম্প্রতি অনুরোধ জানায় হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। তারা এ ব্যাপারে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চান।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English