শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

ডার্বি জিতে কক্ষপথে বার্সা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

এমনিতেই মাঠের পারফরম্যান্স ছিলনা বার্সেলোনা সূলভ। অনাকাক্সিক্ষত সব হার আর ড্র’য়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হবার উপক্রম। সেই সঙ্গে দলেল সেরা তারকা লিওনেল মেসির দল ছাড়ার গুঞ্জণে ভারী হয়ে উঠেছিল কাতালান শিবিরের আকাশ-বাতাস। এমন সময় পা হড়কালেই হতে পারতো বিপদ, আরও ফিকে হয়ে যেত শিরোপা স্বপ্ন। এস্পানিওলের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জে শঙ্কাও জেগেছিল; তবে শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত জয় তুলে নিয়েছে বার্সা। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ১ পয়েন্টে নামিয়ে এনে শিরোপার কক্ষপথে ফিরেছ কিকে সেতিয়েনের দল।

গতপরশু রাতে ক্যাম্প ন্যু’য়ে লা লিগায় বার্সার ঘামঝরানো জয়টি ১-০ গোলের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই লাল কার্ডের নাটকীয়তার পরপরই গোলটি করেন লুইস সুয়ারেজ। নগর প্রতিদ্ব›দ্বীদের বিপক্ষে বার্সেলোনার এটি শততম জয়। আর এই হারে ১২০ বছরের ইতিহাসে পঞ্চমবারের মতো স্পেনের শীর্ষ লিগা থেকে অবনমিত হলো দলটি। সবশেষ এমনটি হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। ৩৫ ম্যাচে পাঁচ জয় ও নয় ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট মাত্র ২৪!
অবনমনের শঙ্কায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এস্পানিওল শুরুটা করেছিল ভালোই। প্রতি-আক্রমণে দশম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় তারা। গতিতে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আদ্রি এমবার্বার নেওয়া শট গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন পা দিয়ে না ঠেকালে বড় বিপদ গতে পারতো। ৪৩তম মিনিটে প্রতিপক্ষের আরেকটি প্রতি-আক্রমণে আবারও ফুটে ওঠে তাদের রক্ষণের দুর্বলতা। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালে পাঠাতে বসেছিলেন ক্লেমোঁ লংলে। বল সরাসরি টের স্টেগেনের গায়ে লাগে, আলগা বল পেয়ে দিদাক ভিলার শট পোস্টে লাগলে আরেক দফা বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।
বীপরিতে প্রথমার্ধে বার্সেলোনার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। লক্ষ্যে রাখতে পারেনি একটি শটও। উল্টো ২৩তম মিনিটে মেসির বাঁকানো ফ্রি-কিক ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুই মিনিট পর অঁতোয়ান গ্রিজমানের দারুণ থ্রু পাস ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও শট নিতে দেরি করে ফেলেন সুয়ারেজ। ব্যর্থতার ভীড়ে দুঃসংবাদ হয়ে আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেলসন সেমেদোর বদলি হিসেবে মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মাথায় আনসু ফাতির বহিষ্কার। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ফের্নান্দো কালেরোকে ফাউল করে শুরুতে হলুদ কার্ড দেখেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। তবে ভিএআরে দেখে সরাসরি তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। অবশ্য তিন মিনিট পর ঠিক একইভাবে এস্পানিওলের মিডফিল্ডার পল লোসানোও লাল কার্ড দেখেন। জেরার্ড পিকেকে ফাউল করায় শুরুতে হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন তিনি; এবারও ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে বহিষ্কার করেন রেফারি।
নাটকীয় মোড় নেওয়া লড়াইয়ে ৫৬তম মিনিটে কাক্সিক্ষত গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। গ্রিজমানের ব্যাকহিলে বল পেয়ে মেসির নেওয়া শট প্রতিহত হওয়ার পর আলগা বল ফাঁকায় পেয়ে জালে পাঠাতে ভুল হয়নি সুয়ারেজের। আসরে এটা তার ১৫তম গোল। বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে সুয়ারেজের গোল হলো ১৯৫টি। লাজলো কুবালাকে (১৯৪) ছাড়িয়ে দলটির ইতিহাসের গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে বসলো তৃতীয় স্থানে।
৬৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো; তবে মেসির জোরালো ভলি রুখে দেন গোলরক্ষক দিয়েগো লোপেস। যোগ করা সময়ে বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ বাড়ায় এস্পানিওল। ৯১তম মিনিটে সের্হি দারদেরের শট আর্তুরো ভিদালের কাঁধের কাছাকাছি জায়গায় লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে সফরকারীরা। ভিএআরের সাহায্য নিয়ে তাতে সাড়া দেননি রেফারি। শেষ মিনিটে তারা ভালো একটি সুযোগ নষ্ট করলে জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। আর অবনমনের কষ্টে এস্পানিওল।
এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান এক-এ নামিয়ে এনেছে বার্সা। ৩৫ ম্যাচে ২৩ জয় ও সাত ড্রয়ে তাদের অর্জন ৭৬ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলা জিনেদিন জিদানের রিয়ালের সংগ্রহ ৭৭ পয়েন্ট। আজ রাতেই অবশ্য ব্যবধান ফের বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের। ঘরের মাঠ আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে তারা আতিথ্য দেবে আলাভেসকে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English