দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তিনি বলেন, তার প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা আমার অন্তরের গহীনে ছিল, সেখানে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমি একজন অভিভাবককে হারিয়েছি।
দৈনিক যুগান্তরকে দেয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শামীম ওসমান এমপি বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই তার সঙ্গে আমার মোবাইলে কথা হয়েছিল। চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা উঠতেই তিনি বলেছিলেন, চিন্তা করোনা শামীম। দেশের মানুষের আর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, ভারত যেতে হবে না। দেশেই সিঙ্গাপুরের চেয়ে উন্নত হাসপাতাল তৈরি করবো। ইনশাল্লাহ কাজ শুরু করে দিয়েছি। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা।
শামীম ওসমান বলেন, একটা মানুষ কতটা দেশ প্রেমিক আর দেশের মানুষের প্রতি কতটা মমতা থাকলে দেশেই একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল তৈরির স্বপ্ন দেখেতে পারেন সেই ঘটনার সাক্ষী আমি নিজেই। নুরুল ইসলাম বাবুল ছিলেন একজন স্পষ্টভাষী এবং এই কারণে তাকে বহু প্রতিবন্ধকতা সহ্য করতে হয়েছে। এত বড়মাপের একজন শিল্পপতি হয়েও তার মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত অহংকারবোধ ছিল না, তিনি চলাফেরা করতেন সাধারণের মতই। নুরুল ইসলাম বাবুল ছিলেন আমার একজন অভিভাবক। সত্য প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা একজন স্নেহশীল অভিভাবকের মত আমার ও আমার পরিবারের দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সব সময় আমাকে উপদেশ পরামর্শ দিয়ে কৃতজ্ঞতার বাধনে আবদ্ধ করেছেন।
শামীম ওসমান বলেন, তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো তার সেই হাসপাতাল করার স্বপ্নটা বাস্তবায়ন হতো, দেশের মানুষের চিকিৎসা সেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতো। ৪ দশকে ৪১টি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন, দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে দিন রাত পরিশ্রম করেছেন। সমাজের অসঙ্গতি আর সত্য তুলে আনতে তিনি যুগান্তর ও যমুনা টিভির মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
তিনি বলেন, তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের ব্যবসায়ী সমাজে ও গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্র শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করার একজন সাহসী যোদ্ধাকে হারাল বাংলাদেশ।
শামীম ওসমান বলেন, আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলআমিনের দরকারে দোয়া করছি যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণে শক্তি দেন।