টাঙ্গাইলের মধুপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করার অভিযোগে মো: সাগর আলীকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে মধুপুরের আম বাড়িয়ার বাহ্মনবাড়ির নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১২। সাগর উপজেলার বাহ্মনবাড়ির মগবর আলীর ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে সাগর হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করছেন। তার স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী আব্দুল গনি সুদের ব্যবসা করতেন। সাগর আলীর সাথে আগে থেকেই সুদের লেনদেন ছিল। সাগর বেশ কয়েকবার টাকা ধার নিয়ে সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হন।
গত মঙ্গলবার আবারও আব্দুল গনির কাছে ২শ’ টাকা ধারের জন্য গেলে তাকে অনেক বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেন আ: গনি। এতে সাগর অপমান বোধ করেন। এর প্রতিশোধ নিতে তার অপর এক সহযোগীকে নিয়ে হত্যা এবং টাকা পয়সা ও সম্পদ লুণ্ঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর তার সহযোগীকে নিয়ে বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী গনির বাসায় যান। যাওয়ার আগে সাগরের সহোযোগী বাজার থেকে চেতনানাশক নিয়ে যান। সাগর ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় খুব সহজেই বাসায় ঢোকার অনুমতি পেয়ে যান। আকস্মিকভাবে চেতনানাশক ব্যবহার করে গনিকে অচেতন করে ফেলেন। পরিবারের সবাই ঘুমে থাকায় অচেতন করতে সহজ হয়।
সবাইকে ঠাণ্ডা মাথায় ভুক্তভোগীর বাসায় ব্যবহৃত কুরাল ও তাদের কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রত্যেককে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আ: গনির বাড়ি ত্যাগ করার আগে বাসার মূল্যমান জিনিসপত্র নিয়ে পলায়ন করেন এবং বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।
সাগরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্রাহ্মবাড়ি তার বোনের বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। অপর সহযোগীকে গ্রেফতার করতে র্যাব-১২ এর অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, জেলার মধুপুর উপজেলার মাস্টার পাড়া এলাকার আব্দুল গনিসহ তার পরিবারের আরো ৩ জন সদস্যকে ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে হত্যা করা হয়। ১৭ জুলাই শুক্রবার সকাল বেলা আব্দুল গনির বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে, তার শাশুড়ি ও এলাকার লোকজনের মাধ্যমে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকলে তাদেরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন, আব্দুল গনি (৪৫), তার স্ত্রী তাজিরন বেগম (৩৮), ছেলে তাজেল (১৭) ও ছোট মেয়ে সাদিয়া (০৮)।
ঘটনার পর থেকে র্যাব-১২ সকল প্রকার গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার তাকে গ্রেফতার করা হলো।