সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার জানিগাওঁ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গভীর খালে পড়ে যাত্রীরা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছে এমন তথ্যর ভিত্তিতে সিলেট থেকে ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চাললে ওই বাসের ভেতরে কোন যাত্রী পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ওই বাসে ২৫ থেকে ২৬ জন যাত্রী ছিলো বলে জানা যায়। পরে ১৭ জন যাত্রী ছিলো বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় গেইটলক বাসটি সিলেট থেকে ১৭ জন যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। বাসটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও নীলপুর বাজারের পাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খালে পড়ে তলিয়ে যায়। এ সময় বাসের ভেতরে থাকা ৭ জন যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকি যাত্রীরা গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। পরে সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিলেট থেকে ডুবুরি দলের দুই ঘণ্টা চেষ্টায় কোন যাত্রী গাড়ির ভেতরে নেই বলে জানা যায়।
বাসে থাকা যাত্রী সাইফুল ইসলাম জানান, গাড়ি ৯ টার সময় সিলেট থেকে ছেড়ে সুনামগঞ্জ আসছিল। গাড়ি যখন জানিগাঁও এলাকায় আসে তখন গাড়ির ড্রাইভারের চোখে সম্ভবত ঘুম ছিল, নিমিষেই গাড়িটি খালে পড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে আমি জানালা দিয়ে অনেক কষ্ট করে বাইরে বেরিয়ে এসেছি।
আরও পড়ুন: ২৬ যাত্রী নিয়ে খালের পানিতে বাস
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, হৈচৈ শব্দ শোনে আমরা দৌড়ে এসে দেখি গাড়ি খালে পড়ে ডুবে যাচ্ছে। এরপর আমরা স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই।
সুনামগঞ্জ বাস-মালিক সমিতির সভাপতি জানান, সকাল ৯টার সময় গেইটলক গাড়ি সিলেট থেকে ছেড়ে আসলে সুনামগঞ্জ জানিগাঁও নীলপুর বাজরে এসে খাদে পড়ে যায়। কি কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এখনও জানা যায়নি। গাড়ির ড্রাইভার ও হেলপার পলাতক আছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা দুই ঘণ্টা গাড়ির তেতর ও বাইরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এরপর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেছি।