রিজেন্টের সাহেদ ও জেকেজির সাবরিনা-আরিফকে সহযোগিতা করায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের পর এবার হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালককেও সরিয়ে দেয়া হলো। হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মোঃ আমিনুল হাসানকে আজ বৃহস্পতিবার তার পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে দেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে এমবিডিসির উপপরিচালক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোঃ ফরিদ হোসেন মিঞাকে হাসপাতাল ক্লিনিকসমূহের পরিচালক করা হয়েছে। তবে তিনি পুর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাননি, তাকে চলতি দায়িত্ব হিসেবে পরিচালক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব মোঃ আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বদলি/পদায়কৃত কর্মকর্তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবসে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।’
সম্প্রতি দুর্নীতিবাজ মোঃ সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন ও তার হাসপাতাল রিজেন্টে পরীক্ষা না করেই করোনার রিপোর্ট দেয়া এবং জেকেজি’র পরীক্ষা না করেই করোনার রিপোর্ট দেয়াকে কেন্দ্র আলোচনায় আসে রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকিজি। এর সাথেই জড়িয়ে যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মোঃ আমিনুল হাসান।
একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতালসমূহের পরিচালকই হাসপাতাল পরিচালনার অনুমতি দেন। নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন তার কাজ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ শাখাটা সব সময় একটি লোভনীয় পদ হিসেবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিবেচনা করেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালককে খুশি করতে না পারলে যেমন নতুন কোনো হাসপাতালের অনুমতি পাওয়া যায় না, তেমনি এসব হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়নের সময়ও এই অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাহিদা পূরণ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান নবায়নও হয় না। এটা স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমুহের পরিচালক অফিসের অঘোষিত নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।