হিন্দু বিধবা নারীরা শুধু স্বামীর অকৃষি জমিই (বসতভিটা) নয়, কৃষি জমিরও অংশীদারিত্ব পাবেন মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ রায় দেন।
খুলনার বাটিয়াঘাটা এলাকার অধিবাসী গৌরীদাসের নামে তার স্বামীর কৃষি জমি রেকর্ড হয়। ওই জমি রেকর্ডের বিরুদ্ধে সহকারি জজ আদালতে ১৯৯৬ সালে মামলা করেন তার দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল। কিন্ত আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। আদালত রায়ে বলে, অকৃষি জমিতে বিধবা হিন্দু নারীরা অংশীদারিত্ব পেলেও কৃষি জমিতে সেই অধিকার রাখেন না। এর বিরুদ্ধে যুগ্ম জজ আদালতে আপিল করলে আদালত মামলাটি খারিজ করে রায়ে বলে, স্বামীর কৃষি জমির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখেন বিধবা হিন্দু নারীরা। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন জোতিন্দ্রনাথ।
আপিলের উপর দীর্ঘ শুনানিতে কৃষি ও অকৃষি জমিতে হিন্দু বিধবা নারীরা অংশীদারিত্ব থাকার বিষয়ে ১৯৩৭ ও ১৯৪৭ সালের দুটি আইনের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। ওই পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট বলে, অকৃষি জমির পাশাপাশি কৃষি জমিতেও অংশীদারিত্ব পাবেন হিন্দু বিধবা নারীরা।
আদালতে অ্যাসিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন ব্যারিস্টার উজ্জল ভৌমিক। তিনি বলেন, হিন্দুদের মধ্যে সাধারণত বিধবা নারীরা স্বামীর বসতভিটার মালিকানা লাভ করতেন। আজকের এ রায়ের ফলে হিন্দু বিধবা নারীরা এখন থেকে কৃষিজমিরও ভাগ পাবেন।
আদালতে বাদিপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার, বিধবা নারী গৌরীদাসের পক্ষে ব্যারিস্টার সৈয়দ নাফিউল ইসলাম শুনানি করেন।