সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

অনুদান ও কম সুদের ঋণে জোর দিচ্ছি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৯ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ আইডিএ সহায়তা পাওয়া দেশগুলোতে বিশ্বব্যাংক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান ও কম সুদের নমনীয় ঋণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তারা সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে গভীরভাবে সম্পৃক্ত, যা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমজীবী মানুষ বিশেষত অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করছে। গত বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলাকালে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাংবাদিকদের আগে থেকে পাঠানো এবং তাৎক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর দেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা আইডিএ সহায়তার আওতায় অত্যন্ত কম সুদের নমনীয় ঋণ পাওয়ার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশসহ ৭৬টি দেশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ২২৬ কোটি ডলারের আইডিএ সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে ১৯১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঋণ এবং ৩৫ কোটি ডলারের অনুদান। গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অনুকূলে যে পরিমাণ আইডিএ সহায়তা অনুমোদন করেছে, তার মধ্যে অর্থবছরের শেষ দিকে বেশি এসেছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ১৭৬ কোটি ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর আগের অর্থবছরে আইডিএ সহায়তা ছিল ২২৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ২০৫ কোটি ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ডলার।
প্রশ্নের উত্তরে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচি সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত নই। তবে এর আগে অন্য প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, করোনা সংক্রমণের কারণে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ হলো, আগামী কয়েক বছর দরিদ্র দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের চাপ কমানো। এ লক্ষ্যে আইডিএতে যারা তহবিল দেন, তাদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কর্মসূচিগুলোর আকার নিয়ে আরও আলোচনার দরকার রয়েছে।’ তিনি বলেন, কভিড সংকটের কারণে অনেক দেশে রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংক এই সমস্যার ওপর কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট করোনাভাইরাসের টিকা প্রদানে সহযোগিতার জন্য বিশ্বব্যাংকের জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচি ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে বলে সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অবহিত করেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কভিডের পরিপ্রেক্ষিতে আইডিএর জন্য আরও অনেক সম্পদের প্রয়োজন হবে। আমরা আইডিএ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ২৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চেয়েছি, যার মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান। আগামী তিন বছর যাতে আইডিএ প্রতিশ্রুতি সুচারুভাবে রক্ষা করা যায়, তার জন্য এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিবেচনায় বাংলাদেশকে ২০১৫ সালে নিম্ন আয় থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করে বিশ্বব্যাংক। একটি দেশের মাথাপিছু আয় যত বাড়ে, তত অনুদান ও কম সুদের ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে বিশেষ পরিস্থিতিতে কম সুদের নমনীয় ঋণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে অধিক কার্যকর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English