জয় নামক শব্দটি যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছিল। সেল্টার মাঠ ক্রমশ হয়ে উঠছিল দুর্ভেদ্য। পুরো মৌসুমে দাপট দেখানো কাতালান শিবির এখানে আসলেই খেই হারিয়ে ফেলত। আর সেটা কম বেশি সব টুর্নামেন্টেই। লা লিগার অবস্থা তো ভীষণ হতাশাজনক। গুণে গুণে পাঁচটি বছর। এই সময়ে সেল্টা ভিগোর মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা। অবশেষে কেটেছে সেই গেরো। প্রতিকূল পরিবেশেও পাঁচ বছর পর লিগে সেল্টার মাঠে জয় পেয়েছে বার্সা। বৃহস্পতিবার রাতে মেসিদের জয়ের স্কোরলাইনটাও বেশ সাবলিল, ৩-০।
লিগে শেষ পাঁচ ম্যাচে সেল্টার মাঠে বার্সা হেরেছে তিনবার। বাকি দুটোতে ড্র। সর্বশেষ জয় সেই ২০১৪-১৫ মৌসুমে। দীর্ঘদিন পর বার্সার জয়ে তৃপ্ত নতুন কোচ ডোনাল্ড কোম্যান। তিনি তো বলেই দিয়েছেন ভক্তদের উদ্দেশ্যে, ‘যতটা ভাবো, তার চেয়ে বেটার এই বার্সেলোনা।’ সেল্টা ভিগোর বিরুদ্ধে জয়ের পর এমনটি তিনি বলতেই পারেন। কারণ এমনিতেই সেল্টার মাঠ ছিল অপ্রতিরোধ্য। তার উপর নাখোশ প্রকৃতিও। প্রচুর ঠাণ্ডার সঙ্গে ছিল বৃষ্টিও। বার্সা খেলতে পারেনি স্বাভাবিক খেলা। আবার দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় জুড়ে বার্সা খেলেছে ১০জনকে নিয়ে। সেখানে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলাটা অস্বাভাবিক নয়। লিগে টানা দুই ম্যাচেই জয়ের দেখা পেল কোম্যান শিবির।
বৃষ্টিতে খেলার ছন্দপতন। তারপরও ১১ মিনিটেই লিড নেয় বার্সা। ফিলিপ কুতিনহোর পাসে দক্ষতার সঙ্গে জাল কাঁপান তরুণ আনসু ফাতি। দুই ম্যাচে তিন গোল করা ফাতি বার্সা শিবিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
৩৫ মিনিটে বড় ধাক্কাই লেগে যাচ্ছিল বার্সার গায়ে। ডেনিস সুয়ারেজকে পেছন থেকে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বার্সা ডিফেন্ডার পিকে। তবে বল ধরার ঠিক আগমুহূর্তে সুয়ারেজ অফসাইডে থাকায় মাঠে রয়ে যান পিকে। তবে লাল কার্ডের খড়গ এড়াতে পারেনি সফরকারীরা। ৪২ মিনিটে মিডফিল্ডার এমরে মরকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ট ল্যাঙ্কলেট। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন পিকে।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বার্সাকে চেপে ধরার চেষ্টা করে সেল্টা। কিন্তু কাজ হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় ব্যবধান ২-০ করে বার্সা। এতে রয়েছে মেসিরও প্রচেষ্টা। ছোট ডি বক্সের মুখে সতীর্থের উদ্দেশ্যে বল বাড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন বার্সা অধিনায়ক। কিন্তু ডিফেন্ডার লুকাস ওলাসার পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জড়ায় সেল্টার জালে।
৫৫ মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন মেসি। অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ৭৩ মিনিটে গোল পেতে পারতো সেল্টা। কিন্তু হয়নি, বায়েসার শট বার্সেলোনার এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ক্রসবার ছুঁয়ে চলে যায় উপর দিয়ে। অতিরিক্ত সময়ে বার্সা পায় তৃতীয় গোল। মেসির শট ঝাপিয়ে ঠেকিয়েছিলেন সেল্টা গোলরক্ষক, তবে আলগা বল খুব সহজেই জালে পাঠান রাইট ব্যাক রবার্তো। দারুণ, সুখকর এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা।
দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে গেতাফে।