কোরআন ছাড়া একজন মুসলমানের জীবন কল্পনা করা যায় না। কোরআন তিলাওয়াতকারী প্রতি অক্ষরে ১০ নেকি পায়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করল তার বিনিময়ে সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকির বিনিময় হবে ১০ গুণ। এ কথা বলছি না যে আলিফ-লাম-মিম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মিম একটি অক্ষর।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)
পরকালে তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ
কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে আল-কোরআন। এটা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কারণ কোরআন কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯১০)
ঠেকে ঠেকে তিলাওয়াত করলেও দ্বিগুণ সওয়াব
যারা শুদ্ধ কোরআন পড়তে জানে না, তাদের অনেকে তিলাওয়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। শুদ্ধভাবে কোরআন পাঠ করার পাশাপাশি ঠেকে ঠেকে হলেও তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া উচিত। এতেও দ্বিগুণ সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরআন তিলাওয়াতে পারদর্শী ব্যক্তিরা সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যারা ঠেকে ঠেকে কষ্ট করে কোরআন তিলাওয়াত করে তারা দ্বিগুণ সওয়াব পাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৯৮)
রাত্রিকালীন তিলাওয়াতের ফজিলত
রাত্রিকালীন নফল ইবাদত আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। তাই আল্লাহ তাআলা রাতে কোরআন তিলাওয়াতের আয়াতসংখ্যা অনুযায়ী তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে ১০ আয়াত তিলাওয়াত করে সে গাফিল বলে গণ্য হবে না, আর যে ব্যক্তি ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করে সে আনুগত্যশীল বলে গণ্য হবে, আর যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করে তার জন্য সওয়াবের ভাণ্ডার লেখা হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪০০)
কোরআনের তিলাওয়াতকারী আল্লাহর পরিজন
আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কতক লোক আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তিলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫)
তিলাওয়াতকারীর প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ
হিংসা করা শরিয়তে নিন্দনীয় ও অবৈধ। কিন্তু যারা কোরআন তিলাওয়াত করে তাদের প্রতি ঈর্ষা বৈধ। অন্যের বেশি তিলাওয়াতের আমল দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজে বেশি তিলাওয়াতের সংকল্প করাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুই ব্যক্তির প্রতি হিংসা করা বৈধ—১. ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন আর সে তা দিনরাত তিলাওয়াত করে আর তার প্রতিবেশী তা শুনে বলে, হায়! আমাকেও যদি এভাবে কোরআন মাজিদ শেখানো হতো, যেমন তাকে শেখানো হয়েছে, তাহলে আমিও এভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতাম এবং ২. ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দিয়েছেন আর সে ওই সম্পদ মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করতে থাকে, আর তার প্রতিবেশী তা দেখে বলে, হায়! আমাকেও যদি তার মতো সম্পদ দেওয়া হতো, যেমন তাকে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আল্লাহর পথে ব্যয় করতাম, যেমন সে করছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০২৬)
আল্লাহ আমাদের কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত উপলব্ধি করে বেশি বেশি কোরআন পাঠ করার তাওফিক দান করুন।