রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৮ জন নিউজটি পড়েছেন

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন করার সময় সীমা নির্ধারণ করা ছিল। সে সময় পর্যন্ত বেশ কিছু অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়ছিল। তবে এখনও ১৩৬ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন আর ২২ হাজার ৪৯টি চুলা রয়ে গেছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয় জ্বালানি বিভাগ। কিন্তু গত ৬ দিন আগে জ্বালানি বিভাগের এক প্রতিবেদন বলছে, এখনও দেশে চিহ্নিত এই পরিমাণ অবৈধ সংযোগ রয়ে গেছে।

সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ গ্যাস লাইনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির। তিতাসেই ১২৮ কিলোমিটার অবৈধ লাইন রয়েছে। আর বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির রয়েছে ৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে চুলার মধ্যে ২১ হাজার ৮৫৪টি তিতাসের আর বাখরাবাদের রয়েছে ১৯৫টি।

গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত তিতাস ৬২০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন অপসারণ করেছে। আর তিন লাখ ৯ হাজার ১৫৯টি চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ১২ হাজার ২৬৪টি চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে আর ৩৭ কিলোমিটার অবৈধ লাইন অপসারণ করেছে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, আগে বিদ্যমান লাইনের মধ্যেই মানুষ অবৈধ চুলা নিতো। এখন একেবারে পাইপ লাইন বসিয়ে অবৈধ লাইন তৈরি করে গ্যাস সংযোগ নিয়ে নেয়। এখানে শুধু চুলার লাইন কাটলেই হয় না পাইপ লাইনও অপসারণ করতে হয়।

গত ২১ জানুয়ারি জ্বালানি বিভাগে অবৈধ গ্যাস লাইন অপসারণ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অপারেশন) বলেন, যেসব ব্যক্তি গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে কাজ করেন তারাই অবৈধ গ্যাস লাইন দিয়ে থাকেন। এখানে অন্য পেশার লোক গ্যাস লাইন দিতে পারে না। ফলে তাদের আগে সতর্ক করতে হবে।
গত বছর জ্বালানি বিভাগ সারাদেশের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য এই কমিটি গঠন করে। কমিটিকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবৈধ সব গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের পর সারাদেশের ৫৮০ কিলোমিটার অবৈধ সংযোগ অপসারণ করে। একইসঙ্গে তিন লাখ ২৫ হাজার ৫৫৯টি চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তবে সব চিহ্নিত লাইন অপসারণ করতে পারেনি বিতরণ কোম্পানি।

জানা যায়, গতবছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সে সময় পর্যন্ত অনেক স্থানের অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

সূত্র জানায় সারাদেশে তিন লাখ ১৭ হাজার ২৭৫টি অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করেছিল বিতরণ কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৪৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় ৩৪৪ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস সংযোগের পাইপ লাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে এখনও এ ধরনের ২৬৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন রয়ে গেছে; যা দিয়ে অবাধে গ্যাস চুরি হয়ে যাচ্ছে। এখনও ৬৩ হাজারের মতো অবৈধ গ্রাহক রয়ে গেছে।

জানা যায়, এখনও দেশে গ্যাসের বিতরণ পর্যায়ে ছয় ভাগেরমতো সিস্টেম লস রয়েছে। গ্যাস যেহেতু পাইপ লাইনে পরিবহন হয়, তাই এত বেশি পরিমাণ সিস্টেম লস হয়। কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মাত্র ২ ভাগ সিস্টেম লস গ্রহণ করে। তাহলে বাকি ৪ ভাগ সিস্টেম লসের কী হবে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো এই সিস্টেম লসকে কায়দা করে অন্য গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেয়। এতে করে সামগ্রিকভাবে গ্যাসের বিলও বেশি আসে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English