শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

অমিত শাহর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬১ জন নিউজটি পড়েছেন
পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলেন অমিত শাহ

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞান সীমিত। কূটনীতিকরাও বলছেন, অমিত শাহর বক্তব্য বাস্তবতা-বিবর্জিত। তার বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করলেও দুই দেশের জনগণের আবেগকে প্রভাবিত করছে। কোনো দেশ সম্পর্কে মন্তব্য করলে অবশ্যই জেনে-বুঝে মন্তব্য করতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে লড়াই জমে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি কলকাতার প্রভাবশালী আনন্দবাজার পত্রিকায় অমিত শাহর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাবেক সভাপতি। সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন সীমান্ত এলাকার নিচুতলায় এখন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। যে কোনো পিছিয়ে পড়া দেশে উন্নয়ন হতে শুরু করলে সেটা প্রথম কেন্দ্রে হয়। আর তার সুফল প্রথমে বড়লোকদের কাছে পৌঁছায়, গরিবদের কাছে নয়। এখন বাংলাদেশে সেই অবস্থাই চলছে। ফলে বাংলাদেশের গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সে কারণেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ চলছে।’
দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী লোক আছেন, দেখেও দেখেন না, জেনেও জানেন না।
বাংলাদেশে এখন কেউ না খেয়ে মরে না। এখানে কোনো মঙ্গাও নেই। অতএব, অমিত শাহর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞান সীমিত।’

ড. মোমেন বলেন, ‘ক্ষেত্রবিশেষে বাংলাদেশ বরং ভারতের চেয়ে এগিয়ে। যেমন- ভারতের লোকদের ৫০ শতাংশের ভালো কোনো শৌচাগার নেই। আর বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ লোকই ভালো শৌচাগার ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে শিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব আছে। তবে কম শিক্ষিত লোকের চাকরির অভাব নেই। আর ভারতের এক লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে চাকরি করে। তাই বাংলাদেশের মানুষের ভারতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই। অতএব, অমিত শাহ যদি এ ধরনের চিন্তা করে থাকেন, তাহলে বলব, তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, অমিত শাহ ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এর আগেও বাংলাদেশ নিয়ে কিছু কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, যেগুলো বাস্তবতা-বিবর্জিত ছিল। এবারও তিনি বাংলাদেশে বাস্তবতার বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন। এটা এক অর্থে বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের উষ্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অস্বস্তিকর।

তিনি বলেন, অমিত শাহ কথাটা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনগণের মধ্যে বহু বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটা মেলবন্ধন আছে। এমন বক্তব্য সেই মেলবন্ধনেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অতএব, তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে দায়িত্বশীল বক্তব্যই কাম্য।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক বিশ্নেষক হুমায়ুন কবীর বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথেষ্ট ভালো জবাব দিয়েছেন। অমিত শাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক। তিনি তার দেশের সীমানায় অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কী বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই, থাকার কথাও নয়। কিন্তু যখন আরেকটা দেশের অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন সে দেশের বাস্তব অবস্থাটা জেনে বক্তব্য দিতে হবে। না জেনে বক্তব্য দিলে সেটা সত্যনির্ভর হবে না এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে; যেমন- বাংলাদেশ সম্পর্কে অমিত শাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অপলাপ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English