মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউনে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চায়ের দোকানগুলোতে চলছে চা পান ও আড্ডা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই আড্ডা জমে ওঠে আরও বেশি করে।
জানা গেছে, দোকানগুলোর সামন বন্ধ রেখে ভিতরে চলে অনবরত আড্ডা। এতে করে বাড়ছে করোনা সংক্রমন। শুক্রবার সন্ধ্যার পরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকানের জমজমাট আড্ডার চিত্র। তবে যেখানে প্রশাসনের গাড়ি যায় না, সেই এলাকার অলিতে গলিতে থাকা চায়ের দোকানগুলোতে এই সময় আড্ডা জমে বেশি। এছাড়া এসব আড্ডাতে দেখা মেলে না স্বাস্থ্য সর্তকতা। বিশেষ করে অনেকে আসেন মাস্ক ছাড়া। অনেকে আবার নিরাপদ দূরত্ব না মেনেই বসে পড়েন চা খেতে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ৩ থেকে ৪ জন মিলে শুরু করেন মোবাইলে লুডু খেলতে।
নাম প্রকাশে না করার শর্তে চায়ের দোকানিরা জানান, প্রশাসনের ভয়ে দোকানের সামন বা দরজা তালা দিয়ে ভিতরে বসে কাউকে-কাউকে চা-পান খাওয়ানো হয়। তবে সন্ধ্যার পরে লোকজনের চাপ বাড়ে। একজন দোকান বন্ধ রাখলে বা ভিতরে লোকজন না ঢুকালে নিজের কাস্টমার অন্য দোকানে চলে যায়, যে কারনেই এই পন্থা অবলম্বন করেন তারা।
দোকানে চা পান করতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, সারাদিন তো ঘরবন্দি, তাই সন্ধ্যার পর একটু চা খেতে দোকানে আসা। এলাকার মধ্যে তো সবাই পরিচিত, তাই আশা করি সমস্যা হবে না।
অন্যদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছে উপজেলা প্রশাসন। তবে কোরবানির ঈদের আগে ও ঈদের পরের চলমান এই লকডাউনে এখন পর্যন্ত উপজেলায় একদিনও চোখে পড়েনি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র মতে, করোনা পরীক্ষার দিক দিয়ে উপজেলায় করোনা সংক্রমন হার শতকরা ৪৬ শতাংশ। প্রায় প্রতিটি এলাকায় করোনার উপসর্গ জ্বর-সর্দি নিয়ে ভুগছে অনেকেই। বেশি সমস্যা ছাড়া পরীক্ষা করাচ্ছে না অনেকেই।