শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

আত্মসাৎকারীর পরিণতি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬২ জন নিউজটি পড়েছেন

যুদ্ধ শেষে ফেরার পথে একজন ব্যক্তি তীরের আঘাতে মারা যায়। সাহাবায়ে কেরাম রা: বলাবলি করলেন, লোকটি কত সৌভাগ্যবান যে সে শহীদ হয়ে গেল। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, তোমাদের সাথী জাহান্নামি। সাহাবায়ে কেরাম রা: তাজ্জব হয়ে গেলেন। কারণ যুদ্ধের ময়দানে সেই ব্যক্তি তাঁদেরই সাথে ছিলেন। রাসূল সা: বললেন, সে খেয়ানত করেছে। তার মাল-সামান তল্লাশি করে গণিমতের একটি চাদর পাওয়া গেল। খায়বরের যুদ্ধে গণিমতের মাল (চাদরটি) জমা না দিয়ে সে সেটি রেখে দিয়েছিল।
একটি চাদর আত্মসাৎ করার অপরাধে যদি সারা জীবনের আমল বিনষ্ট হয়ে জাহান্নামে যেতে হয় তাহলে যারা পুকুরচুরি নয়, সাগরচুরি করে তাদের পরিণতি কী হবে? রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তি যদি এক টুকরো সুতা বা তার চেয়েও কোনো ক্ষুদ্র জিনিস খেয়ানত করে তাহলে খেয়ানতের বোঝা মাথায় করে সে উত্থিত হবে।
মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি। ছোট বড় যে যাই দুর্নীতি করবে কোনো কিছুই গোপন করা সম্ভব নয়। দুনিয়ার জীবনে ক্ষমতার জোরে বা ছলচাতুরী করে পার পেলেও আখিরাতে ঠিকই ধরা খাবে। পদ্মা সেতুতে যারা দুর্নীতি করবে হয়তো দেখা যাবে পদ্মা সেতু মাথায় করে কাঁপতে কাঁপতে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বা অফিসের আসবাবপত্র/পারমাণবিক বালিশ/ল্যাপটপ/টেবিল-চেয়ার-কাগজ/পার্টির কাছ থেকে নগদ অর্থ যাই হোক না কেন খেয়ানতকারীর রক্ষা নেই (উদাহরণ মাত্র)। আজকের দিনের দাপট সেদিন মূল্যহীন হয়ে যাবে। হয়তো দেখা যাবে অফিসের পিয়ন/দারোয়ান সততার কারণে মহা শান শওকতের সাথে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ তার দুর্নীতিবাজ বসের করুণ পরিণতি সে দেখবে।
আল্লাহর সাথে নাফরমানি অনেক বড় অপরাধ, কিন্তু এই অপরাধ করে কোনো ব্যক্তি যদি অনুতপ্ত হয়ে বলে, পরোয়ারদেগার! আমি ভুল করেছি আমাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ ক্ষমা করবেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ বা মানুষের হক নষ্ট করলে তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে না নিলে বা আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরৎ না দিলে কোনো ক্ষমা নেই।
আমি হতাশ করতে চাই না, কারণ আল্লাহ পাক দয়ার সাগর। তিনি তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার জন্য বলেছেন। কোনো বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তা ফেরত দিয়ে আপনার দ্বারা তার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করুন। এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে থাকেন তা হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তা ফেরত দিয়ে দেশের সকল মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে তাওবা করে গোপনে গরিব-দুঃখী মানুষকে দান করে এবং নিজের, নিজের পিতা-মাতা ও তৎসঙ্গে যারা তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্রমাগত দোয়া করার মাধ্যমে হয়তো আল্লাহ পাক ক্ষমা করতেও পারেন।
আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও ব্যক্তিবিশেষের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ-দখল থেকে দূরে থাকি। আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন অতি নগণ্য। কত নগণ্য তা কল্পনাও করা যায় না। যত বড় দাপুটে ও সম্পদশালী হই না কেন মৃত্যুর সাথে সাথে আমি আর সেই সম্পদের মালিক থাকব না। পরোয়ারদেগার! তুমি আমাদের সহিহ উপলব্ধি দান করো। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English