অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া আলুর দাম সরকারের হস্তক্ষেপে কমতে শুরু করেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দাম নির্ধারণের তিন দিনের মধ্যে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম কমেছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে আলুর কেজিতে ১০ টাকা দাম কমেছে। দু-এক দিনের মধ্যে নির্ধারিত দামে ফিরে আসবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এদিকে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে খোলা ভোজ্যতেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সম্প্রতি নানা অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। তখন খুচরায় কেজিতে আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা উঠেছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার দাম কমে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পাইকারিতেও একই হারে কমে নির্ধারিত দামের কাছাকাছিতে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল কারওয়ান বাজার, মিরপুর-১ ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হয়।
মিরপুর-১ বাজারের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, এখন হিমাগার থেকে আলুর সরবরাহ বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের কাছাকাছি বিক্রি করছেন। এ কারণে খুচরায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। পাইকারিতে নির্ধারিত দামে বিক্রি হলে খুচরায় ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে ৩৫ টাকার নিচে নামবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আলুর বাজার অস্থির হয়েছে, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে। এটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না, কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা ইচ্ছা করেই টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকা দরে আলু ছেড়েছি ভোক্তাদের সহযোগিতার জন্য। মন্ত্রী বলেন, গতকাল আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ছিল। এখন ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেটা ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমরা আশাবাদী, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫ টাকার নিচে নেমে আসবে।
বাজারে আলুর দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পর আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে খুচরায় সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেঁধে দেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এই দর কার্যকর না হওয়ায় সর্বশেষ গত মঙ্গলবার আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে খুচরায় ৩৫ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। আগে নির্ধারিত দর কেজিতে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে পাইকারিতে ৩০ ও হিমাগারে ২৭ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এরপর থেকে বাজারে আলুর সরবরাহ বাড়তে থাকায় দামও কমছে। এদিকে নির্ধারিত মূল্যে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা যেন আলু বিক্রি করেন, সেজন্য কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সব জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. জহির উদ্দিন বলেন, তিন-চার দিনের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। এখন পাইকারিতে আলুর মানভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দু-এক দিনে এই দর আরও কমে ৩০ টাকার মধ্যে সব আলুর দাম নেমে যাবে। আর হিমাগার থেকে আলুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত দামে বিক্রি হবে।
লিটারে ২ টাকা কমছে খোলা তেলের দাম :খোলা ভোজ্যতেল সয়াবিন ও পামের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের তেল ব্যবসায়ীরা এ ঘোষণা দিয়েছেন। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠক করে এ ঘোষণা দেন তেল ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, খোলা সয়াবিনের লিটার ৯২ থেকে দুই টাকা কমিয়ে ৯০, পামওয়েল ৮২ থেকে দুই টাকা কমিয়ে ৮০ টাকা করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। পাঁচ লিটারে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা। দেশে ১২টি প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেল সরবরাহ করে। বর্তমানে দেশে মজুদ এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে।