রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

ইসলামে উপুড় হয়ে ঘুমানো নিষিদ্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

আমরা অনেকেই উপুড় হয়ে ঘুমাতে পছন্দ করি। এটি অভ্যাসে পরিণত হওয়ায় উপুড় হয়ে না ঘুমালে অনেকের ঘুমই আসে না। কিন্তু এই অভ্যাসটা কিন্তু মোটেই ভালো নয়।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, এভাবে শোয়া সাময়িক আরামদায়ক মনে হলেও এ অভ্যাসের কারণে মেরুদণ্ড, শ্বাসপ্রশ্বাস, শরীরের বিশ্রাম ও ঘুমের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক বদলে গিয়ে ঘাড়-পিঠে ব্যথা হতে পারে। অনেকের মতে এভাবে শুয়ে থাকলে পিঠের নিচের অংশেও অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। পিঠের নিম্নাংশে সমস্যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগজনিত নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। উপুড় হয়ে শোয়ার এমন অনেক অপকারিতা জাতীয় পত্রিকাগুলোর লাইফস্টাইল পাতাগুলোয় পাওয়া যায়।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাসুল (সা.) এভাবে শুতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হিসেবে হাদিস শরিফে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক. মহান আল্লাহ এভাবে শোয়া পছন্দ করেন না। দুই. এটি জাহান্নামিদের শোয়া। জাহান্নামিদের উপুড় করেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ইবনে তিখফা আল-গিফারি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা তাঁকে অবহিত করেন যে তিনি ছিলেন আসহাবে সুফফার সদস্য। তিনি বলেন, একদা শেষ রাতে আমি মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। আমি উপুড় হয়ে ঘুমে বিভোর অবস্থায় একজন আগন্তুক আমার নিকট এলেন। তিনি আমাকে তাঁর পায়ের সাহায্যে নাড়া দিয়ে বলেন, ওঠো! এই উপুড় হয়ে শুলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আমি মাথা তুলে দেখি যে রাসুল (সা.) আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে। (আদবুল মুফরাদ, হাদিস : ১১৯৯)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু জর (রা.) বলেন, আমি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় নবী (সা.) আমার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে তাঁর পা দ্বারা খোঁচা মেরে বলেন, হে জুনাইদিব! এটা তো জাহান্নামের শয়ন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৭২৪)

রাসুল (সা.)-এর বাণী—‘এটা তো জাহান্নামের শয়ন’—এর পক্ষে পবিত্র কোরআনের আয়াতও পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে জাহান্নামিদের প্রতি ইরশাদ হয়েছে, ‘যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে; সেদিন বলা হবে, জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন করো।’ (সুরা : কমার, আয়াত : ৪৮)

অতএব আমাদের উচিত, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল যেভাবে শোয়া পছন্দ করেন না, সেভাবে শোয়া থেকে বিরত থাকা। ইনশাআল্লাহ, এতে আমাদের দুনিয়া-আখিরাত উভয় জাহানে কল্যাণ হবে। যদি কারো অসুস্থতার কারণে কিংবা অন্য কোনো সমস্যায় উপুড় হয়ে শোয়ার একান্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে তা ভিন্ন কথা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English