বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের বকেয়া ঈদের আগে পরিশোধ ও অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় মিল ফের চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের পক্ষ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক বরাবর এই বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ২ জুলাই সরকার ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেয়। এতে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিক প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এখন ঘোর অন্ধকারে নিপতিত। উপরন্তু বকেয়া পাওনা প্রদানের ক্ষেত্রেও শ্রমিকরা সরকারের প্রতারণামূলক ফাঁদে পড়ছেন। অথচ এই বকেয়া পাওনা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সরকারের দয়া বা করুণা নয়। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিকই এখন তাদের পাওনা।
১৮ হাজার ২০০ বদলি শ্রমিকের বকেয়া পাওনা অর্থের কোনো খবর নেই। সাত হাজার দৈনিকভিত্তিক শ্রমিক অবগত নন, তারা আদৌ অর্থ পাবেন কিনা? মিলের কলোনিতে বসবাস করা শ্রমিকদের কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই তাদের কলোনি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা শঙ্কা, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, চলমান লকডাউনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলি-দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকরা নিদারুণ অর্থ সংকটে ভুগছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা ঈদের আগে বকেয়া সঠিক হিসাব অনুযায়ী এককালীন পরিশোধ এবং নামের ভুল দ্রুত সংশোধন করে কয়েক হাজার স্থায়ী পাটকল শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আ ফ ম মহসীন, সদস্য সচিব এসএ রশীদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাজী দেলোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি আব্দুল করিম, বদলি শ্রমিকনেতা আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার প্রমুখ।