শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

এ কোন ধরনের প্রতারণা!

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
  • ৫৮ জন নিউজটি পড়েছেন

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই কমিশন মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করে থাকে। কিন্তু ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)। সংগঠনটির নামের সঙ্গে ‘কমিশন’ শব্দটি যুক্ত করায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার এমন অনেক ভুক্তভোগী প্রায়শ:ই নামের এই বিভ্রান্তিতে পড়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিবর্তে প্রতিকার চাইতে দ্বারস্থ হয় কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কাছে। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে বেসরকারি এই সংস্থার নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা প্রদান করা হলেও তাতে ভ্রুক্ষেপ করছে না। ওই নামেই কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রতারিত হচ্ছে জনসাধারণ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলছে, সংস্থাটির নাম জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল থাকায় এবং তাদের নেতা-কর্মীরা নিজেদেরকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, গভর্নর, সদস্য ইত্যাদি পরিচয় দেয়ায় এবং তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে পতাকা ও মনোগ্রাম ব্যবহার করায় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে উক্ত সংস্থাটিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে। যা উদ্বেগজনক।

এদিকে বেসরকারি এই সংস্থার সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রায় তিন হাজারের উপর শাখা রয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষই নন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের সংস্থা বিবেচনায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেক সরকারি কর্মকর্তাসহ কূটনীতিকরাও। নামের এই বিভ্রান্তির কারণে চলতি বছর অভিভাসন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সরকারি সংস্থা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিবর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয় কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনকে। ফলে ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান/পরিস্থিতিকে বিশ্ববাসীর সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করে ক্ষুণ্ণ করা হয় দেশের ভাবমূর্তি।

সম্প্রতি এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সংবিধিবদ্ধ/সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সরকার বা আদালতের বিশেষ আদেশবলে গঠিত কোন কমিশন ব্যতিরেকে অন্য কোন বেসরকারি বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামের সাথে কমিশন/কাউন্সিল/মিশন বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা সমীচীন নয়। মানবাধিকার রক্ষার নামে যে সকল এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মানুষকে হয়রানি করে বা অর্থ আদায় করে থাকে সেসব সংস্থার বিষয়ে মাঠ প্রশাসনের কড়া নজরদারি করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে যাতে কোনরকম বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব না ঘটে এবং কেউ যাতে কোন বিভ্রান্ত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোন এনজিও মানবাধিকার কমিশন নামে কার্যক্রম পরিচালনা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অনুরোধ করেছে কমিশন।

এদিকে ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের’ নামের সঙ্গে কমিশন শব্দ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের ওই আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত। রিট মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাকির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, যখন আমরা আদালতে কথিত এই মানবাধিকার কমিশনের নানা অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেছি তখন আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা যায় যে, সংস্থাটির ৪৩টি আন্তর্জাতিক শাখা রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ১৫টি শাখা। জেলা পর্যায়ে শাখা রয়েছে ৬৫টি। আর আঞ্চলিক, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা এলাকায় শাখার সংখ্যা ১ হাজার ১৪৯টি। এছাড়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, নারী, কর্মাশিয়াল, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১ হাজার ৪৫৩টি শাখা রয়েছে। এসব শাখার নেতা-কর্মীরা নিজেদেরকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দেওয়া বিভ্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। যা মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর লিখিত চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বিভ্রান্ত হয়ে চিঠি দেয়ায় অংশ নেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে

কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি অভিবাসন সংক্রান্ত জাতিসংঘের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহ থেকে মোট ৮২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। আয়োজক সংস্থা ভুল করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্থলে কথিত ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনকে’ নিমন্ত্রণ পত্র পাঠায়। উক্ত সম্মেলনে যোগদানকারী বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র নামক একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধির দেওয়া তথ্যমতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামক সংস্থা থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বাংলাদেশের অবস্থান/পরিস্থিতিকে বিশ্ববাসীর সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করে।

বিভ্রান্ত হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ মার্চ ‘জাতীয় মানবাধিকার কনভেনশন-২০২০’ আয়োজন করতে উদ্যোগে নেয় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিকট হতে বাণী সংগ্রহ করছিলো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি অবহিত হয়ে সকলের নজরে আনলে উল্লিখিত কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English