মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন

এখনো উত্তপ্ত সিলেট, পুলিশের গাড়িতে হামলা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৯ জন নিউজটি পড়েছেন

সিলেটে ফাঁড়িতে নির্মমভাবে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবারও উত্তপ্ত ছিল সিলেট। দুপুরে কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতেও হামলা করে।

হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পলাতক এসআই আকবরসহ (বরখাস্তকৃত) অন্যান্যদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

নগরীর কোর্ট পয়েন্টে দুপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ হামলা চালায়। তবে সঙ্গে সঙ্গে সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি সামাল দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সেলিম মিয়া জানান, গাড়িটি ছিল সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরীর। তিনি তখন আদালতে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, কোর্ট পয়েন্টে ঐক্য কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ চলছিলো। তখন গাড়িটি লক্ষ্য করে হঠাৎ করে সমাবেশের একাংশ গাড়ির কাছে এগিয়ে গিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। এদের মধ্য থেকে কয়েকজন গাড়িটিতে হামালা চালায়। পরে পরিষদের নেতাদের সহযোগিতায় ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হস্তক্ষেপে গাড়িটি সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।

এদিকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক জিহাদুর রহমান।

টিটু বন্দর বাজার ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন এবং রায়হান হত্যার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই মামলায় তিনিই প্রথম গ্রেফতার।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) খালেদুজ্জামান জানান, পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে নিয়ে আসে বন্দর বাজার থানা পুলিশ। ওই রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ এবং তাকে ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করে।

ভোরে একটি মোবাইল থেকে রায়হানের ফোন পায় তার পরিবার। তাতে ফাঁড়ি থেকে তাকে ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান রায়হান। নির্যাতনের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১১ অক্টোবর সকালে রায়হানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান তিনি।

পুলিশ দাবি করে, রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের ফুটেজে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলার পর এর তদন্ত ভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। এই তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটুচন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English