এপ্রিল থেকে জুন—তিন মাসে কোভিড-১৯-এর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি।
ওইসিডি–ভুক্ত ৩৭টি দেশের অর্থনীতি গড়ে সংকুচিত হয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ওইসিডি মনে করছে, এর পরের আঘাতটা পড়বে স্পেনের ওপর।
ইউরোজোনের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হারে।
এপ্রিল থেকে জুন—তিন মাসে কোভিড-১৯-এর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে নেওয়া লকডাউনের কারণে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এতে আনুষ্ঠানিকভাবেই মন্দায় পড়েছে অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এ কথাই বলছে।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যেখানে ওইসিডি-ভুক্ত ৩৭টি দেশের অর্থনীতি গড়ে সংকুচিত হয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
ওইসিডি মনে করছে, এর পরের আঘাতটা পড়বে স্পেনের ওপর। দেশটির অর্থনীতি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে ওইসিডি অন্যতম। ২০০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় এক প্রান্তিকে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর গড় সংকোচন ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবার।
অর্থনীতি সংকোচনের হার (শতাংশে)
জি–৭ ১০.৯
ইউরোজোন ১২.১
ওইসিডি ৯.৮
যুক্তরাজ্য ২০.৪
তবে কেবল ওইসিডিভুক্ত নয়, সংকোচন হয়েছে ইউরোজোন ও শিল্পোন্নত দেশগুলোতেও। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনভুক্ত দেশের সংকোচনের হার ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। ইউরোজোনের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ হারে। জি-সেভেনভুক্ত দেশের মধ্যে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফ্রান্সের অর্থনীতি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ইতালি ১২ দশমিক ৪, কানাডা ১২ ও জার্মানি ৯ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য যখন দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তখন চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক বিবিসিকে বলেন, সরকার এমন একটি বিষয় নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, যা নজিরবিহীন এবং এটি খুবই কঠিন ও অনিশ্চিত সময়। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় খারাপ অবস্থায় পড়েছে, কারণ এই অর্থনীতি পরিষেবা, আতিথেয়তা ও ভোক্তা ব্যয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। অবশ্য সরকারি নীতির অনেক সমালোচনা করছেন বিরোধীরা। ছায়া চ্যান্সেলর অ্যানেলিজ ডডস অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে দোষারোপ করছেন। তিনি বলেন, লকডাউনের পরে মন্দা অবশ্যম্ভাবী ছিল—তবে জনসনের জন্য চাকরির সংকট ছিল না।