শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

করোনায় স্বাস্থ্যসেবা দেবে দেশীয় রোবট

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৭ জন নিউজটি পড়েছেন

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পেতে বিভিন্ন দেশে রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ চিকিৎসায় রোবট ব্যবহার করছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না গিয়েও ওষুধ খাবার এবং অন্যান্য সেবা চালিয়ে যেতে রোবট খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের একদল তরুণ শিক্ষার্থী, রোগীর কাছে খাবার, ওষুধ ও পরামর্শ পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি রোবট উদ্ভাবন করেছেন।

এ রোবটটির নামকরণ করা হয়েছে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. সিতারা বেগমের নাম অনুসারে। তার অবয়বে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি দল রোবটটি উদ্ভাবন করেছে। তারা সবাই রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বাংলাদেশের সদস্য।

শিক্ষার্থীদের ওই দলের দলনেতা রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কেএম ফারজাদুল ইসলাম, তার সঙ্গে রয়েছেন সাইয়াম বিন ইসলাম (মেশকাত), শাহিদা আফরিন, পারভেজ ও সুমন।

করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছে না গিয়ে ওষুধ সরবরাহ ও তথ্য সংগ্রহের কাজে রোবটটি তৈরি করা হয়েছে। রোবটটি চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। চিকিৎসক তার কক্ষে বা অন্য কোথাও বসে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোবট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। উদ্ভাবক দলের প্রধান বলেন, ভাইরাসসংক্রমিত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে না গিয়েও তাকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- ওষুধ, খাদ্য সরবরাহ করা যাবে। এর সেন্সরের সামনে রোগীর মাথা রাখলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী মনিটরে দেখা যাবে।

জানা গেছে, ওই দলের শিক্ষার্থীদের তিন মাসের চেষ্টায় রোবটটি তৈরি করেছেন। এটি ৫-১০ কেজি ওজন বহন করতে পারে এবং টানা এক থেকে দেড় ঘণ্টা কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। এতে বিশেষ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও স্পিকার সংযুক্ত করা আছে। যার মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যে কোনো স্থান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এটিকে। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ট্রায়াল শেষে বাণিজ্যিকভাবে এ রোবট তৈরি করা হবে।

করোনা সেবাদানকারী রোবট সিতারা বেগমের কার্যপ্রণালি বিশ্বমানের; তবে এটিকে আরও আপডেট করতে পারলে সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান উদ্ভাবক দলের প্রধান। উদ্ভাবক দলের সদস্য শাহিদা আফরিন বলেন, এটি মেডিকেল রোবটের প্রথম ভার্সন। রুয়েটের শিক্ষক ও হাসপাতালের ডাক্তারদের মতামতের ভিত্তিতে ২য় ভার্সনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। এটিকে বাজারজাত করার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এটি স্বাস্থ্য খাতে অবদান রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।

রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. বশির আহমেদ জানান, সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে আসা যাবে।

রোবট সিতারা বেগম সেবাদানে সফল হলে এটি দেশের তথ্য-প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন রুয়েটের উপাচার্য ড. রফিকুল ইসলাম শেখ। তিনি বলেন, কিছু মডিফিকেশন প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো ঠিকঠাক হলে রোবটটি সেবাদানে সফল ভূমিকা রাখতে পারবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English