শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

কলেজে বসেই শিক্ষামন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতেন ৩ শিক্ষক

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপিসহ বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর উপজেলার ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বসেই ফেক আইডি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করতেন কলেজের শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন, নোমান ছিদ্দিকি ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবিএম আনিছুর রহমান শরীফ।

‘জয় আহমেদ’ নামে একটি আইডিতে মিথ্যা প্রচারণা পোস্ট করার সময়ই ৩ শিক্ষককে হাতে নাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে চাঁদপুর মডেল থানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদেরকে এ তথ্য জানান।

এর আগে রোববার তাদেরকে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি ল্যাপটপ, ৩টি মোবাইল সেট, একাধিক মোবাইল সিম ও অন্য ব্যক্তির নামে করা একটি দরখাস্ত উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গত এপ্রিল প্রথম সপ্তাহে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। ‘আয়শা খন্দকার’ নামে একটি আইডি থেকে শিক্ষামন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের গুজব ও অপপ্রচার করে আসছিল। তার প্রেক্ষিতে জিডি অনুসন্ধান করে এর সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় আমরা জিডিকে গত ২৭ এপ্রিল মামলায় রূপান্তর করি। মামলার ধারা হচ্ছে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৯/৩১।

তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা এটির পিছনে লেগে থেকে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পায়। পরবর্তীতে আমরা আদালতে একটি সার্চ ওয়ারেন্টের জন্য আবেদন করি। সার্চ ওয়ারেন্ট পাওয়ার পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের আইটি সেকশনে একটি অভিযান পরিচালনা করি এবং আমাদের গোয়েন্দার তথ্যের সত্যতা অনুযায়ী ওই কক্ষের মধ্যে ৩ জন শিক্ষককে পাই।

মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, এর মধ্যে একজন কলেজের ইসলামিক ইতিহাসের প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন, আইসিটি শিক্ষক নোমান ছিদ্দিকী এবং পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসার শিক্ষক এবিএম আনিছুর রহমান প্রকাশ শরীফ। এ সময় ‘জয় আহমেদ’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে এ ধরণের কার্যক্রম চালানোর সময় হাতে নাতে আটক করি।

তিনি বলেন, এ সময় তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি কলেজ বন্ধের সময় রাতের বেলায় অনুমতি ছাড়া কেন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারেননি। এতে প্রতীয়মান হয় তারা এই ধরণের ফেক আইডি থেকে মন্ত্রী, এমপিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম এসব লিংকগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয় পাবে এবং এদেরকে শনাক্ত করবে। আমরা আসামিদেরকে আদালতে পাঠিয়ে দিবো এবং রিমান্ড চাইবো। রিমান্ড দেয়া হলে তাদেরকে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এর সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদেরকে শনাক্ত করা যাবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত হারুনুর রশিদ, পুলিশ পরিদর্শক সিপিআই মুরশেদুল আলম ভূঁইয়াসহ পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইএম আহসান উল্লাহ, সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল-ইমরান শোভন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়েরসহ জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English