ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে গিয়ে ফের একবার কৃষি আইনের সমর্থনে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ অবশেষে কৃষকদের আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করেছেন মোদি। এ নিয়ে শর্তহীন আলোচনায় বসছেন মঙ্গলবার। তবে মোদির অভিযোগ নতুন কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে৷ আর এই আইনগুলো ঐতিহাসিক এবং যুক্তিযুক্ত বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলছেন যারা কৃষকদের ভাল চাননি, তারাই এখন এই আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে কৃষকদের ভয় দেখাচ্ছেন৷
নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা৷ দিল্লি অভিযানের ডাক দিয়েছেন তারা৷ হরিয়ানা- দিল্লি, উত্তর প্রদেশ- দিল্লি সীমান্তে জমায়েত হয়েছেন হাজার হাজার কৃষক৷ ক্রমেই এই আন্দোলনের রেশ দেশের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, নতুন এই কৃষি আইনগুলি কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করবে৷ মধ্যস্বত্তভোগীদের দাপট কমবে৷
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘নিজেদের উৎপাদিত ফসল কাকে বেচবেন তা বেছে নেওয়ার অধিকার কি কৃষকদের থাকা উচিত নয়? কেউ যদি বেশি দাম দিয়ে সরাসরি ফসল কিনতে চান, তাহলে কি ফসল বেচতে পারবেন না কৃষকরা? কৃষি আইন সংশোধনের ফলে আরও বড় বাজার খুলে যাবে কৃষকদের সামনে৷’ প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, কেউ যদি পুরানো পদ্ধতিতেই ফসল বেচতে চান, তাহলে সেই সুযোগও পাবেন কৃষকরা৷
কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতদিন নূন্যতম সহায়ক মূল্য থাকলেও তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও নীতি ছিল না৷ ঋণ মওফুক করা নিয়েও কৃষকদের মিথ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী৷ এমন কি সারেরও কালোবাজারির অভিযোগ তোলেন নরেন্দ্র মোদি৷ তার অভিযোগ, ভোট পাওয়ার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকানো হত কৃষকদের৷
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কৃষকদের দাবিগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি সরকার৷ কৃষকদের জন্য তার সরকার কাজ করতে থাকবে বলে দাবি করেছেন মোদি৷ কৃষকদের ক্ষমতায়ণেই নতুন এই আইনগুলি আনা হয়েছে৷
কৃষক সংগঠনগুলি মঙ্গলবার ফের বৈঠকে বসবে৷ এর পর কেন্দ্রীয় সরকারের কতৃপক্ষদের সঙ্গে দেখা করবেন তারা৷