ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাওসাহেব দানভের দাবি, তাঁর দেশে চলমান কৃষক বিক্ষোভের পেছনে চীন ও পাকিস্তানের হাত রয়েছে।
গতকাল বুধবার এমন দাবি করেন দেশটির উপভোক্তা, খাদ্য ও গণবণ্টনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাওসাহেব দানভে। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এদিন মহারাষ্ট্রের এক জেলায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারতের এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, যে আন্দোলন চলছে, তা কৃষকদের নয়। এর পেছনে চীন ও পাকিস্তানের হাত রয়েছে।
রাওসাহেব দানভের ভাষ্য, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) নিয়ে আগে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। মুসলমানদের বলা হয়েছিল, এনআরসি আসছে, সিএএ আসছে। ছয় মাসের মধ্যে মুসলমানদের দেশত্যাগ করতে হবে। কিন্তু একজন মুসলমানও দেশত্যাগ করেছেন কি না, সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
রাওসাহেব দানভে বলেন, আগের তৎপরতা সফল হয়নি। এখন আবার কৃষকদের বলা হচ্ছে, নতুন আইনের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এগুলো বাইরের দেশের ষড়যন্ত্র। এই যড়যন্ত্রের পেছনে চীন ও পাকিস্তানের ভূমিকা দেখছেন রাওসাহেব দানভে।
তবে ঠিক কিসের ভিত্তিতে রাওসাহেব দানভে এমন অভিযোগ করছেন, তার বিস্তারিত তিনি বলেননি।
বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ভারতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করছেন কৃষকেরা।
সবশেষ গতকাল বুধবার এই আইন সংশোধনে কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করে কৃষক সংগঠনের সংযুক্ত মোর্চা।
গতকাল সন্ধ্যায় অবরোধস্থল থেকে কৃষকনেতারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে তাঁরা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন। ছড়িয়ে দেবেন রাজ্যে রাজ্যে, জেলায় জেলায় ও ব্লক পর্যায়ে।
কৃষকনেতারা জানান, আগামী শনিবার তাঁরা দিল্লি-জয়পুর ও দিল্লি-আগ্রা জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেবেন। একে একে অবরোধ করবেন দিল্লিগামী অন্যান্য জাতীয় সড়কও। দখল নেবেন সব জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলো। আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে সর্বত্র শাসক দল বিজেপির কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।