কৃষি ঋণের সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ এপ্রিল থেকে কৃষি খাতের আওতায় বিতরণ করা শস্য, ফসল, ফুল, ফল, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে সুদহার হবে ৮ শতাংশ।
অবশ্য করোনার কারণে কৃষি ঋণের শস্য ও ফসল চাষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভর্তুকী অব্যাত থাকবে। ফলে গতবছরের এপ্রিল থেকে আগামী জুন পর্যন্ত এ দু’টি খাতে কৃষকরা যে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন তা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের কারণে বেশ আগ থেকে কৃষি, রপ্তানিসহ কিছু খাতে সুদহার নির্ধারণ করে দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৭ সালের জুন থেকে কৃষি খাতে ৯ শতাংশ সুদহার নির্ধারিত ছিল। গতবছরের এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কৃষিসহ সব খাতের সুদহার অভিন্ন হয়ে যায়। তবে বিনিয়োগ চাহিদা কমাসহ বিভিন্ন কারণে ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে এখন ৯ শতাংশের কম সুদে ঋণ দিচ্ছে। এরকম প্রেক্ষাপটে কৃষি ঋণের সুদহার কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, বাজারে সুদহার কমে এসেছে। ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে করোনার এসময়ে কৃষি ঋণের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। তিনি বলেন, কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে এ সুদহার কার্যকর হবে। আর করোনার কারণে আগামী জুন পর্যন্ত শস্য ও ফসল খাতে কৃষকদের ভর্তুকী সুদের বিশেষ সুবিধাও বহাল থাকবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের উন্নয়নের সঙ্গে বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা, দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য খাতের মতো কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরকম প্রেক্ষাপটে কৃষি খাতে স্বল্প সুদে ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করে কৃষকদের স্বাভাবিক উৎপাদনশীল কার্যক্রমে ফিরিয়ে উৎপাদন বাড়াতে সুদহার কমানো প্রয়োজন। এরকম অবস্থায় কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশে পুনঃনির্ধারণ করা হলো। এ নির্দেশনা গত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে শস্য ও ফসল খাতে বিদ্যমান ও নতুন ঋণে কৃষক পর্যায়ে সুদহার ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ৫ শতাংশ ভর্তুকী হিসেবে দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া তখন শস্য ও ফসল ব্যতীত কৃষির অন্যান্য খাত তথা মৌসুমভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মৎস্য চাষ, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়। এর বাইরে এনজিওর মাধ্যমে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়।